চীনের প্রভাব মোকাবিলায় বিরল খনিজ মজুত গড়তে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

চীনের প্রভাব মোকাবিলায় বিরল খনিজ মজুত গড়তে যাচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন
শেয়ার করুন

চীননির্ভরতা কমাতে বিরল ও গুরুত্বপূর্ণ খনিজ খাতে বড় উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন শিগগিরই কৌশলগত একটি ‘ক্রিটিক্যাল মিনারেলস স্টকপাইল’ গঠনের ঘোষণা দিতে প্রস্তুত, যেখানে প্রাথমিকভাবে ১২০০ কোটি মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হবে বলে জানা গেছে।

রয়টার্সকে দেওয়া তথ্যে প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্রের এক্সপোর্ট-ইমপোর্ট ব্যাংক (এক্সিম) এই প্রকল্পে মূল অর্থায়ন করবে। উদ্যোগটির লক্ষ্য হলো লিথিয়াম, নিকেল ও বিরল মাটি উপাদানসহ (রেয়ার আর্থস) এমন সব খনিজের সরবরাহ নিশ্চিত করা, যেগুলো বৈদ্যুতিক যান, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, স্বাস্থ্যসেবা প্রযুক্তি ও আধুনিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বর্তমানে বৈশ্বিক বিরল খনিজ উত্তোলনের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং প্রক্রিয়াজাতকরণের প্রায় ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে চীন। এই আধিপত্যের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে দামের ওঠানামা এবং সরবরাহ ঝুঁকি বেড়েছে বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বিশেষ করে গত বছর বাণিজ্য উত্তেজনার সময় চীন যখন কিছু বিরল খনিজ রপ্তানিতে নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে, তখন যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাতে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়।

‘প্রজেক্ট ভল্ট’ নামে পরিচিত এই উদ্যোগে সরকারি অর্থের পাশাপাশি বেসরকারি বিনিয়োগ যুক্ত হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, স্বয়ংচালিত গাড়ি নির্মাতা, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ শিল্পগুলো জরুরি পরিস্থিতিতে অন্তত ৬০ দিনের খনিজ সরবরাহ পাবে। এতে কোম্পানিগুলোর নিজস্ব মজুত গড়ার আর্থিক ঝুঁকিও কমবে বলে আশা করছে প্রশাসন।

প্রকল্পের আওতায় খনিজ সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পেতে পারে কয়েকটি বড় পণ্য বাণিজ্যকারী প্রতিষ্ঠান। একই সঙ্গে একটি নির্বাহী কাঠামো গঠন করা হবে, যেখানে এক্সিম ব্যাংকের প্রতিনিধিত্ব থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখযোগ্যভাবে, গত অক্টোবর মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ও বিরল মাটি উপাদান নিয়ে একটি সহযোগিতা কাঠামো স্বাক্ষরিত হয়। সেই ধারাবাহিকতায় এই স্টকপাইল উদ্যোগকে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি খনিজ নিরাপত্তা কৌশলের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, কংগ্রেসেও এ বিষয়ে তৎপরতা বাড়ছে। সম্প্রতি দুই দলের সমর্থনে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ২৫০ কোটি ডলারের আলাদা খনিজ মজুত তহবিল গঠনের প্রস্তাব রয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো বাজার স্থিতিশীল রাখা এবং দেশীয় খনিজ উত্তোলন ও পরিশোধন কার্যক্রমে বিনিয়োগ বাড়ানো।

বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পখাত চীনের সরবরাহ নিয়ন্ত্রণ থেকে কিছুটা হলেও মুক্তি পাবে এবং বৈশ্বিক খনিজ বাজারে শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ হবে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today