যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরুর ইঙ্গিত দিচ্ছে ইরান
শেয়ার করুন

আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা প্রশমিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরমাণু ইস্যুতে আবারও আলোচনায় বসার সম্ভাবনা দেখছে ইরান। তেহরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে বিরোধ কমাতে মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের প্রস্তাব ও কূটনৈতিক উদ্যোগ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং খুব শিগগিরই সম্ভাব্য আলোচনার একটি কাঠামো চূড়ান্ত হতে পারে।

সোমবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদানে আঞ্চলিক দেশগুলো মধ্যস্থতার ভূমিকা পালন করছে। তিনি জানান, চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বিভিন্ন ধাপ নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণের আশা করা হচ্ছে।

এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এলো, যখন সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা কিছুটা কমে এসেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, উভয় পক্ষই এখন আলোচনার পথ খোলা রাখতে আগ্রহী।

বিভিন্ন সংবাদ সংস্থার বরাতে জানা গেছে, তুরস্কের ইস্তাম্বুলে সম্ভাব্য একটি বৈঠক হতে পারে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অংশ নিতে পারেন। কাতার, তুরস্ক, মিসর ও ওমানের কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই এমন বৈঠকের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে আঞ্চলিক সূত্রগুলো দাবি করছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কোনো পক্ষই বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।

এরই মধ্যে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাঘচি সৌদি আরব, মিসর ও তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন এবং সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেছেন। পাশাপাশি দেশটির কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান পরমাণু আলোচনা পুনরুজ্জীবনের নির্দেশ দিয়েছেন।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি স্বীকার করেছেন যে ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, যদিও একই সঙ্গে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন নৌবহর মোতায়েনের কথাও উল্লেখ করেছেন। হোয়াইট হাউস সূত্র জানায়, যুক্তরাষ্ট্র আলোচনার পাশাপাশি চাপের কৌশলও বজায় রাখতে চায়।

ইরান বরাবরের মতোই দাবি করে আসছে, তাদের পরমাণু কর্মসূচি পুরোপুরি বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং অস্ত্র তৈরির কোনো লক্ষ্য নেই। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর আশঙ্কা, তেহরান গোপনে পরমাণু অস্ত্রের সক্ষমতা বাড়াতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটন আলোচনার শর্ত হিসেবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্র সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন কমানোর দাবি তুলেছে বলে জানা গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কঠোর নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অর্থনীতি চাপে থাকায় তেহরানের জন্য নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা এখন জরুরি হয়ে উঠেছে। ফলে পরমাণু আলোচনায় ফেরার বিষয়ে দেশটি আগের তুলনায় বেশি বাস্তববাদী অবস্থান নিতে পারে। তবে ক্ষেপণাস্ত্র ও আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ইস্যুতে ইরান কতটা ছাড় দেবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

উল্লেখ্য, গত জুন মাসে ওমানে শুরু হওয়া মার্কিন-ইরান আলোচনা ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলার পর ভেঙে পড়ে। বর্তমানে নতুন করে সংলাপ শুরু হলে তা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা।

Visited 4 times, 1 visit(s) today