রূপলাল-প্রদীপ দাসদের খুনি হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলো জামিনে, দিচ্ছে হিন্দু পরিবারগুলোকে হুমকি

রূপলাল-প্রদীপ দাসদের খুনি হাসতে হাসতে বেরিয়ে এলো জামিনে, দিচ্ছে হিন্দু পরিবারগুলোকে হুমকি
শেয়ার করুন

স্থানীয় সংবাদদাতা

রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় দরিদ্র সংখ্যালঘু পরিবারের দুই সদস্য- রূপলাল দাস এবং তার জামাতা প্রদীপ লালকে পিটিয়ে হত্যা মামলার আসামি হাসতে হাসতে বেরিয়ে এসেছে জামিনে। কারামুক্ত হয়ে এসেই এবার সেই হিন্দু পরিবারগুলোকে হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ মিলেছে।

মেয়ের বিয়ের লগ্ন ঠিক করতে যাওয়া রূপলাল ও তার জামাতাকে মব হামলার মাধ্যমে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলা তুলে নিতে হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে খুনিরা।

এ ঘটনায় গত সোমবার মামলার বাদী রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী দাস থানায় একটি অভিযোগ দিয়েছেন বলে তারাগঞ্জ থানার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ জানান।

রংপুরে বিয়ের লগ্ন ঠিক করতে গিয়ে মব সন্ত্রাসে নিহত ২ আত্মীয়

বাদী ভারতী রানী (৩৬) অভিযোগে করেন, গত বছরের ৯ই আগস্ট তার স্বামী ও জামাতাকে মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় ১০ই আগস্ট তারাগঞ্জ থানায় বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা করেন তিনি। পুলিশ তথ্য-প্রযুক্তি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে এ হত্যার ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত রূপলাল দাসের পুত্র জয় রবিদাস

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মো. রুবেল পাইকার জামিন পাওয়ার পর ২২শে জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে ভারতী রানী ও তার ছেলে জয় রবিদাসকে দেখতে পেয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। এ ছাড়া এই হত্যা মামলার আরেক আসামি সোহাগও তাদের হুমকি দিচ্ছেন।

ভারতী রানী বলেন, মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় আসামিরা আমাদের গালিগালাজ করার পাশাপাশি বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখানোসহ হত্যার হুমকি দিচ্ছে। ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করেছি। কিন্তু এখন আমরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমাদেরকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আমার ছেলে বাইরে দোকান করে সংসার চালায়। ছেলেও খুব ভয়ে আছে। ওরা খুব হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমরা এখন খুব অসহায়। নিরূপায় হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।

রংপুরে মবের হাতে দুই হিন্দু ব্যক্তি হত্যা, উন্মত্ততা দেখে উদ্ধার না করে ফিরে যায় পুলিশ

রূপলাল দাসের ছেলে জয় রবিদাস বলেন, আমার বাবাকে পিটিয়ে হত্যার ভিডিওতে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। সোহাগ বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। নিজে এবং লোকজন দিয়ে মামলা তুলে নিতে হুমকি দিচ্ছে। কিন্তু পুলিশ তাকে ধরছে না। রুবেল পাইকার জামিনে এসে হুমকি দিচ্ছে। আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। বাবার হত্যার বিচার চাওয়া কি আমাদের অপরাধ?

হুমকিদাতা মোহাম্মদ রুবেল পাইকার

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল পাইকার দাবি করেন, এসব অভিযোগ মিথ্যা। মামলায় আসামি অনেক লোক। এসব সাজানো অভিযোগ। তাকে আমি চিনি না, জীবনেও তার বাড়িতেও যাইনি।

আরেক আসামি সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ই আগস্ট রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা এলাকায় মব সন্ত্রাসের শিকার হয়ে প্রাণ হারান ঘনিরামপুর গ্রামের রূপলাল দাস (৪০) ও ভাগ্নি জামাই মিঠাপুকুরের বালুয়াভাটা গ্রামের প্রদীপ দাস (৩৫)।

রূপলাল দাসের মেয়ের বিয়ের কথাবার্তা চলছিল। সেদিন বিয়ের লগ্ন ঠিক করার কথা ছিল। এ উদ্দেশ্যে প্রদীপ দাস ভ্যান চালিয়ে মিঠাপুকুর থেকে রওনা হয়ে পথ না চিনে সয়ার ইউনিয়নের কাজীরহাট এলাকায় পৌঁছান। সেখান থেকে রূপলাল দাসকে ফোন দিলে তিনি গিয়ে প্রদীপকে নিয়ে ভ্যানে করে নিজের গ্রামের দিকে রওনা হন। পথে বটতলা এলাকায় স্থানীয় কয়েকজন তাদের থামান। একপর্যায়ে সন্দেহের ভিত্তিতে তাদের বেদম প্রহার করা হয়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের বুড়িরহাট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ফেলে রাখা হয়। রাত ১১টার দিকে পুলিশ উদ্ধার করে তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত প্রদীপ দাসকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে রোববার ভোরে তিনি মারা যান।

Visited 7 times, 1 visit(s) today