স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে একটি মাদ্রাসার বার্ষিক সভায় দাওয়াত না পাওয়া নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ৯ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
২৪শে জানুয়ারি, শনিবার ফটিকছড়ি হেঁয়াকো সরকারপাড়া বিজিবি ক্যাম্প মসজিদের সামনে দুপুরে এ সংঘর্ষ ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, হেঁয়াকো সরকার পাড়া স্বতন্ত্র এবতেদায়ী মাদ্রাসার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে দাওয়াত না পাওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবদল কর্মী কবিরের সঙ্গে মাদ্রাসার সভাপতি মো. হান্নান ও সমাজপতি তাজুল ইসলামের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
সংঘর্ষে সরকার পাড়া সমাজের সর্দার তাজুল ইসলাম (৪৫), তার ভাই শহীদুল্লাহ (৫০), ছেলে নুরুল ইসলাম (২৬), বাপ্পি (২৫), কবিরের ভাই ওয়াসিম ও হুমায়ুন এবং এক নারীসহ মোট ৯ জন আহত হন।
আহতদের প্রথমে হেঁয়াকো জেনারেল হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পরেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। যা একপ্রকারে প্রশাসনের ব্যর্থতা বলা যায়।
আহত তাজুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, মাদ্রাসার সভায় দাওয়াত না দেওয়ার অজুহাতে কবির ও তার ভাইয়েরা আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে এলোপাতাড়ি কুপিয়েছে।
তবে কবির পাল্টা অভিযোগ করে বলেন, তাজুল ইসলাম পরিকল্পিতভাবে তার লোকজন নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছেন। মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় আমাকে টার্গেট করা হয়েছে।
ভূজপুর থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক নুরুল আমিন আজাদ বলেন, দাওয়াত না দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। নির্বাচনের আগে এ ধরনের সহিংসতা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করছে।
ভূজপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিপুল চন্দ্র দে জানান, দাওয়াত দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের মারামারির খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তবে প্রথমে পরিস্থিতি নিযন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। এখন পর্যন্ত কোনও লিখিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
