ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি ২০২৬) শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলিয়ে মোট ১৫৩ জনের নিয়োগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের স্বজনদের অগ্রাধিকার দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধা ও স্বচ্ছতার নীতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
সভায় ৯টি বিভাগে ৪৪ জন শিক্ষক, ৯ জন কর্মকর্তা এবং ১০০ জন তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়। তবে নিয়োগপ্রাপ্তদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য নামগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. শামিম উদ্দিন খান-এর মেয়ে মাহিরা শামিম, যিনি ফিন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন।
- উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন-এর ভাগনে সাঈদুর রহমান, যিনি ক্রিমিনোলজি অ্যান্ড পুলিশ সায়েন্স বিভাগে নিয়োগ পেয়েছেন।
- ল্যাবরেটরি স্কুলের নিয়োগ বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক রেজাউল আজিম-এর স্ত্রী জান্নাতুন নাঈম এবং শ্যালিকা জান্নাতুন আফরোজও নিয়োগ পেয়েছেন।
এই ঘটনাকে অনেকে বিশ্ববিদ্যালয়ে “নিজেদের সুবিধা মতো করে কোটা বিদ্যমান” অবস্থার সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে দেখছেন। জুলাই২৪ এর পরে সংস্কারের নামে স্বজনপ্রীতি আর দলীয় নিয়োগে ভয়াবহ রুপ নিয়েছে।
শিক্ষার্থী ও সচেতন মহলের মতে, যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে আত্মীয়তা ও প্রভাবশালীদের সান্নিধ্যই এখানে প্রধান মাপকাঠি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অন্যদিকে, সিন্ডিকেট সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গের ঘটনায় দুই কর্মচারীকে কঠোর সতর্ক করা হয়েছে। এছাড়া নিয়োগ পরীক্ষায় জালিয়াতির অভিযোগে এক প্রার্থীকে তিন বছরের জন্য নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের একাংশ দাবি করছে, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি অনুসরণ করা হয়েছে।
তবে এই ব্যাপক নিয়োগের (বিশেষ করে বর্তমান প্রশাসনের দেড় বছরে ২৫০ জনেরও বেশি নিয়োগ) মধ্যে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। শিক্ষার্থীরা মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও পরিচয় প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
চবি কর্তৃপক্ষের এমন পদক্ষেপ কতটা মেধাভিত্তিক ও নিরপেক্ষ, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা রক্ষায় আরও কঠোর তদন্ত ও সংস্কারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
