গ্যাস আমদানি ও সরবরাহে লেজেগোবরে অবস্থা অন্তর্বর্তী সরকারের

গ্যাস আমদানি ও সরবরাহে লেজেগোবরে অবস্থা অন্তর্বর্তী সরকারের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা বড় ধরনের বিপর্যয়ের দিকে এগোচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মহল। বিশেষ করে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার (ইউনূস সরকার) এক্সিলারেট এনার্জি (পিটার হাসের সাথে যুক্ত মার্কিন কোম্পানি)-কে এককভাবে বড় এলএনজি (LNG) সরবরাহের দীর্ঘমেয়াদি অর্ডার দিয়ে অন্যান্য বিকল্প উৎস বা ব্যাকআপ ব্যবস্থা না রাখায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়েছে।

এছাড়া সার্বিক অব্যবস্থাপনা, আমদানি বিলম্ব, আবহাওয়াজনিত ব্যাহততা এবং স্পট মার্কেটের দাম কম থাকা সত্ত্বেও সময়মতো কার্গো না কেনার কারণে শিল্প, বিদ্যুৎ ও সার কারখানায় গ্যাস সরবরাহে চরম ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

কাতারের এক্সিলারেট এনার্জির সাথে ১৫ বছরের চুক্তি (জানুয়ারি ২০২৬ থেকে শুরু) অনুসারে ২০২৬-২৭ সালে ০.৮৫ মিলিয়ন টন প্রতি বছর এবং পরবর্তীতে ১ মিলিয়ন টন এলএনজি সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। কিন্তু সেই চুক্তির অধীনে এলএনজি না এনে পিটার হাসের সাথে সমঝোতার ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি আনা হচ্ছে, যা দামেও বেশী আবার অনেকবেশী সময় লেগে যায় পরিবহনের দুরতের কারনে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই একক নির্ভরতা আর দুরত্ব ঝুঁকিপূর্ণ। আবহাওয়াজনিত কারণে (যেমন ঝড় বা রুক্ষ সমুদ্র) ফ্লোটিং স্টোরেজ অ্যান্ড রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (FSRU)-এর অপারেশন ব্যাহত হলে পুরো সরবরাহ চেইন ভেঙে পড়ে।

সাম্প্রতিক সময়ে মহেশখালী টার্মিনালে এমন বিলম্ব ঘটেছে, যার ফলে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে ২,৫০০-২,৬০০ mmcfd-এ নেমেছে (চাহিদা ৩,৮০০ mmcfd-এর বেশি)।

এদিকে, বিশ্ববাজারে এলএনজির স্পট দাম রেকর্ড কম (৯-১০ ডলার/MMBtu) হওয়া সত্ত্বেও সরকার সময়মতো কার্গো কেনায় ব্যর্থ হয়েছে। ফলে সার কারখানা (BCIC)-এর উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, যা আসন্ন বোরো মৌসুমে সার সংকটের আশঙ্কা তৈরি করেছে। শিল্প খাতে গ্যাসের চাপ কমে উৎপাদন স্থবির হয়ে পড়ছে, এবং গার্মেন্টসসহ অন্যান্য শিল্পে লোডশেডিং ও উৎপাদন হ্রাসের অভিযোগ উঠেছে।

জ্বালানি বিভাগের অভ্যন্তরীণ সূত্র বলছে, পিটার হাস (পূর্বতন মার্কিন রাষ্ট্রদূত, বর্তমানে এক্সিলারেটের স্ট্র্যাটেজিক উপদেষ্টা)-এর কোম্পানির সাথে চুক্তি হওয়ার পর অন্যান্য সম্ভাব্য সরবরাহকারী (যেমন ভারতের H-Energy বা অন্যান্য) থেকে বিকল্প টার্মিনাল বা সরবরাহ চুক্তি বাতিল বা স্থগিত করা হয়েছে।

দুটি নতুন ভাসমান এলএনজি টার্মিনালের মধ্যে একটি সামিটের, যেটা কোর্টে চলে গিয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। আর মার্কিন কম্কানি এক্সেলারেটকে যেটা দেওয়া হয়েছিল, সেটা শুধু একটি এমওইউ পর্যায়ে ছিল, সেটিও বাতিল হয়েছে।

অর্থনীতিবিদ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, এই অব্যবস্থাপনা অব্যাহত থাকলে শীতকালীন চাহিদা মেটাতে আরও বড় সংকট তৈরি হবে। সরকারকে দ্রুত বিকল্প উৎস খোঁজা, স্পট মার্কেট থেকে কার্গো কেনা এবং এলএনজি আমদানির প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও বৈচিত্র্যময় করার দাবি উঠেছে। না হলে গ্যাস সরবরাহের এই বিপর্যয় অর্থনীতি ও জনজীবনে আরও গভীর প্রভাব ফেলবে।

Visited 26 times, 1 visit(s) today