আইসিস-সংশ্লিষ্ট আসিফ আদনান ঢাবি মঞ্চে: ‘বিএনপি নেতার ছেলে’ হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে

আইসিস-সংশ্লিষ্ট আসিফ আদনান ঢাবি মঞ্চে: ‘বিএনপি নেতার ছেলে’ হওয়ায় ধরাছোঁয়ার বাইরে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অমর একুশে হলে আসিফ আদনানের একটি অনুষ্ঠান ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অতীতে আইসিস-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া আসিফ আদনানের বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠান করা এবং তাকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সম্প্রতি অমর একুশে হলের টিভি রুমে ‘AI, Transhumanism & Islam’ শীর্ষক একটি আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন আসিফ আদনান। অনুষ্ঠানটির আয়োজক ও অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এদিকে সিটিটিসির নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার বরাতে দাবি করা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে আসিফ আদনানকে আটক করা যাচ্ছে না। ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আসিফ আদনানের পিতা বিএনপি নেতা হওয়ায় তাকে আটক করা যাচ্ছে না। সে এদেশে জঙ্গিবাদের অন্যতম প্রোমোটার।’

তবে ওই কর্মকর্তার বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটিকে সিটিটিসির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না।

আসিফ আদনানের অতীত নিয়েও জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। ২০১৪ সালে তাকে আইসিস-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সে সময় তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ এবং দেশে শরিয়াহভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টার অভিযোগও ওঠে। তবে অভিযোগের সবগুলোই আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের অন্যতম প্রধান উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তার প্রকাশ্য অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে অতীতে তার বিরুদ্ধে ওঠা জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পরও কীভাবে এমন আয়োজন হলো এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি সম্পর্কে কতটা অবগত ছিল—তা নিয়ে আলোচনা চলছে।

এদিকে আসিফ আদনানের রাজনৈতিক পরিচয় ও পারিবারিক সম্পর্ক নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নানা দাবি ছড়িয়েছে। এসব দাবির মধ্যে তার পিতার রাজনৈতিক পরিচয় এবং বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি স্বাধীনভাবে যাচাই করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জঙ্গিবাদ-সংশ্লিষ্টতা কিংবা রাজনৈতিক প্রভাবের মাধ্যমে আইনগত সুবিধা পাওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সিটিটিসি ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।

Visited 50 times, 7 visit(s) today