নিজস্ব প্রতিবেদক
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় মাইক্রো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করে অসদুপায় অবলম্বনের অভিযোগে শুধুমাত্র গাইবান্ধা জেলা থেকে নারীসহ ৫২ পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে।
গতকাল ৯ই জানুয়ারি, শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত দেড় ঘণ্টাব্যাপী লিখিত পরীক্ষা চলাকালে জেলার বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে তাদের আটক করা হয়। এসময় আটক পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, ব্লুটুথ পরিচালত মাইক্রো সাইজের ইয়ার ডিভাইসসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
জানা যায়, সারাদেশের ৬১ জেলার মতো গাইবান্ধায়ও ৪৩টি কেন্দ্রের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এসব কেন্দ্রের মধ্যে ২৪টি কেন্দ্র থেকে মোট ৪৯ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১১ জন পরীক্ষার্থী আটক হন গাইবান্ধা সদর উপজেলার কুপতলা আব্দুল কাইয়ূম হাইস্কুল কেন্দ্র থেকে।
আটকদের অনেকের কানের ভেতর থেকে মাইক্রো সাইজের ডিভাইস বের করার জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার লক্ষ্মণ কুমার দাশ রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করার সময় জেলার ২৪টি পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে ৫২ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও ব্লুটুথ ইয়ার ডিভাইস পাওয়া গেছে। আটকদের মধ্যে নারী পরীক্ষার্থীও রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নাম ঠিকানা নিয়ে আটকদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলার প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে পরীক্ষা সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে এর আগেই গাইবান্ধা জেলা প্রশাসন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
৮ই জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লার স্বাক্ষরিত এক আদেশে প্রতিটি পরীক্ষা কেন্দ্রের চারপাশে ২০০ গজের মধ্যে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করা হয়।
আদেশ অনুযায়ী, পরীক্ষার দিন দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত পরীক্ষা কেন্দ্রের আশপাশে যেকোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, প্রচারণা, বেআইনি জমায়েত ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে কেন্দ্র এলাকায় অননুমোদিত ব্যক্তিদের প্রবেশেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।
