গাইবান্ধা প্রতিনিধি।
গাইবান্ধা জেলা শহরের বাংলাবাজারে অবস্থিত কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (এটিআই) শহিদ মিনারের পবিত্রতা ক্ষুণ্ন ও ভাঙচুরের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এক প্রশিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত ওই প্রশিক্ষকের নাম মোহাম্মদ আহসান হাবীব। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. মাহবুবার রহমানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এর আগেও গত ১৮ অক্টোবর অভিযুক্ত প্রশিক্ষক ফেসবুক লাইভে এসে শহিদ মিনারের ওপরে উঠে অবমাননাকর বক্তব্য দেন এবং তাতে লাথি মারেন। ওই ঘটনার ভিডিও প্রমাণ তার ব্যক্তিগত ফেসবুক আইডিতে রয়েছে। এ ঘটনায় দাপ্তরিক পরামর্শে গাইবান্ধা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল।
অধ্যক্ষ জানান, গত রোববার (২৫ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ইনস্টিটিউটে এসে তদন্তের অংশ হিসেবে কথা বলেন। এর পরদিন সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকালে আরও উগ্র আচরণ করে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক ওই শহিদ মিনারের মাঝের একটি পিলারের নিচের বেশ কিছু টাইলস হাতুড়ি দিয়ে ভেঙে ফেলেন।
ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, পরিচালক ও প্রশিক্ষণ উইংয়ের পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান অধ্যক্ষ।
এদিকে খবর পেয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত প্রশিক্ষক মোহাম্মদ আহসান হাবীবের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
উল্লেখ্য, ভাষা আন্দোলনের শহিদদের স্মৃতির পরম শ্রদ্ধার প্রতীক শহিদ মিনারের মতো জাতীয় ও আবেগের জায়গায় এমন অবমাননাকর কর্মকাণ্ডে স্থানীয়রা হতবাক। দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।
