নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দলের পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে।
৯ই জানুয়ারি, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন তারেক রহমান নিজেই।
দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, রাতে স্থায়ী কমিটির বৈঠক ডাকা হয়েছে। তবে বৈঠকের আলোচ্যসূচি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেননি।
দলীয় সূত্র জানায়, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক বাস্তবতায় তারেক রহমানকে বিএনপির পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে ঘোষণা দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ আলোচ্য হতে পারে। খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর বিএনপির চেয়ারম্যান পদ শূন্য রয়েছে। বর্তমানে তারেক রহমান ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা–২০২৫-এর বিধি ৭(চ) অনুযায়ী, কোনো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের মনোনীত প্রার্থী কেবল তার বর্তমান দলীয় প্রধানের ছবি প্রচারসামগ্রীতে ব্যবহার করতে পারবেন।
এ কারণে দলীয় প্রধানের আনুষ্ঠানিক পরিচয় স্পষ্ট হওয়া বিএনপির জন্য তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি সিলেটে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, ‘দু-এক দিনের মধ্যেই তারেক রহমানকে দলের চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করা হবে।’
তার এই বক্তব্যের পর থেকেই দলটির ভেতরে আনুষ্ঠানিক ঘোষণার সময়সূচি নিয়ে আলোচনা জোরদার হয়।
বিএনপির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদ শূন্য হলে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্বয়ংক্রিয়ভাবে দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে তারেক রহমান কার্যত দলের প্রধান হলেও এখনো দলীয়ভাবে তাকে ‘চেয়ারম্যান’ হিসেবে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি এবং প্রচার কার্যক্রমেও এই পদবি ব্যবহার করা হচ্ছে না।
ফলে আসন্ন সংসদ নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে প্রার্থীদের ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেটে কার ছবি ব্যবহার করা হবে—এ নিয়েও দলের মধ্যে কিছুটা অনিশ্চয়তা রয়েছে।
দলীয় মিডিয়া সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, তারেক রহমানকে পূর্ণাঙ্গ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য অনুরোধ করেছেন। তবে তিনি তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামত ও পরামর্শকে গুরুত্ব দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আগ্রহী। নেতৃত্ব গ্রহণের ক্ষেত্রে এ ধরনের সম্মিলিত মতের ওপর তিনি বরাবরই গুরুত্ব দিয়ে থাকেন।
প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি খালেদা জিয়া কারাবন্দি হওয়ার পর তারেক রহমানকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে মনোনীত করা হয়। এরপর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে তার নেতৃত্বেই দল পরিচালিত হয়ে আসছে। করোনাকালে ২০২০ সালের ২৫শে মার্চ শর্তসাপেক্ষে খালেদা জিয়া মুক্তি পেলেও তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মুক্তি পেলেও তিনি আর দলীয় কার্যক্রমে ফেরেননি। চলতি বছরের ৩০শে ডিসেম্বর তার মৃত্যুর পর বিএনপিতে নেতৃত্বের আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসে।
