আয়নাল কারিগর
মোসাদ এজেন্টের সাথে মিলে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকাসহ বিভিন্ন গুরুতর অপরাধে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরী ওরফে মোসাদবন্ধু আসলাম। ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সদস্য ও মোসাদ এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সাথে ঘনিষ্ঠতার কারণে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে আসলম চৌধুরীকে অনেকে মোসাদবন্ধু আসলাম চৌধুরী হিসেবেই চেনেন।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার এই উপদেষ্টা কারাবন্দি ছিলেন প্রায় ৮ বছর। ঋণখেলাপিসহ তার বিরুদ্ধে মামলা ছিল বেশ কিছু। লম্বা সময় জেলে থাকলেও আওয়ামী লীগ আমলেই সবচেয়ে বেশি সম্পদ বেড়েছে তার। জেলে যাওয়ার আগে ৩ কোটি টাকার সম্পদ ছিল তার। যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৫৭ কোটি টাকায়।
কারাগারে যাওয়ার আগে তার ঋণ ছিল সাড়ে ১৭ কোটি টাকা। এখন তার ঋণের পরিমাণ ৩৪৫ কোটি টাকা। ঋণের সব টাকা বাদ দিলেও আসলাম চৌধুরীর সম্পদের নেট মূল্য দাঁড়ায় ১১২ কোটি টাকা।
শুধু সম্পদ নয়; কারাগারে থাকা অবস্থায় বেড়েছে আসলাম চৌধুরীর আয়ও। ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে জমা দেওয়া হলফনামায় তিনি বার্ষিক আয় দেখান ১৪ লাখ ৮ হাজার ৫৯০ টাকা। এবারের হলফনামা অনুযায়ী, তার বার্ষিক আয় ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার ২০২ টাকা। ১৭ বছরে তার আয় বেড়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ২৮ হাজার টাকা। যা আগের তুলনায় আড়াই গুণ বেশি।
দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রদ্রোহী আসলাম চৌধুরী কারামুক্ত হন।
২০০২ সালে জিয়া পরিষদের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার বাসিন্দা আসলাম চৌধুরী।
‘সরকার উৎখাতের’ জন্য ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্টের সঙ্গে ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গুলশান থানায় আসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা হয়। দণ্ডবিধির ১২০-বি (রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র), ১২১-এ (রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার ষড়যন্ত্র) এবং ১২৪-এ (রাষ্ট্রদ্রোহ) ধারায় করা এ মামলাটির তদন্তভার ডিবির কাছে হস্তান্তর করা হয়। ২০১৫ সালের ১৫ই মে আসলাম চৌধুরীকে কুড়িল-বিশ্বরোড এলাকা থেকে আটক করার পর ৫৪ ধারার মামলায় আদালতের নির্দেশে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় ডিবি।
ঘটনার শুরু
ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে মেন্দি এন সাফাদিকে লবিস্ট নিয়োগ করে একটি চুক্তি করে বিএনপি। চুক্তিটি হয় ভারতের আগ্রার তাজ রিসোর্টে ২০১৬ সালের ৯ই মার্চ। চুক্তি অনুযায়ী লবিস্ট হিসেবে সাফাদিকে মাসিক ২০ হাজার মার্কিন ডলার দেওয়ার কথা। চুক্তির পর কয়েক দফায় সাফাদিকে টাকা পাঠানো হয় একটি বেসরকারি ব্যাংকের নবাবপুর শাখা এবং হুন্ডির মাধ্যমে।
ডিবি জানায়, এর আগে ঢাকার গুলশানে প্রথম বৈঠক হয়ে। পরবর্তী ৭ মাসে ঢাকা ছাড়াও লন্ডনে এবং ভারতের বিভিন্ন এলাকায় বৈঠক করেন তারা। পরিকল্পনায় আসলামের সঙ্গে ছিলেন মানবাধিকারকর্মী শিপন বসু, সাংবাদিক সঞ্জীব ও বিএনপিকর্মী মতিন। বিএনপির কয়েকজন নেতাও বৈঠকে অংশ নেন। তারা সরকার উৎখাতে জন্য নাশকতার পাশাপাশি ‘মিথ্যা প্রচারণাও চালান।
এক ভারতীয়র সঙ্গে বৈঠকে তারা বলেন, বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায় নিরাপদ নয়। তাই আওয়ামী লীগ সরকারকে হটাতে হবে। সাফাদির সঙ্গে একান্ত বৈঠকের আয়োজন করেন শিপন বসুু। আসলাম চৌধুরীকে জিজ্ঞাসাবাদ, আলামত বিশ্লেষণ এবং ভারতে সফরে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের তথ্য মেলে। শিপন এখন ভারতেই অবস্থান করছেন।
মোসাদবন্ধু আসলামের সাথে সাফাদির সাক্ষাতের বৃত্তান্ত
আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্রের অভিযোগে করা রাষ্ট্রদ্রোহের মামলায় ২০১৬ সালের ১৫ই মে গ্রেপ্তারের পর আসলাম চৌধুরী জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য দেন। ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে ভারতে বৈঠকে সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র করেন।
সাফাদির সাথে সাক্ষাতের ছবি ফাঁস হয়ে যাওয়ায় আর ধামাচাপা দেওয়া সম্ভব হয়নি। তখন আসলাম চৌধুরীর আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া আদালতে দাবি করেন, “আসলাম চৌধুরী দাওয়াত পেয়ে ভারতের একটি অনুষ্ঠানে গেলে সেখানে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির নেতা সাফাদির সঙ্গে তার দেখা হয়েছিল।”
এ ঘটনার মাসখানেক আগেই আসলামকে বিএনপির নয়া কমিটির যুগ্ম মহাসচিব করেন চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। অপরদিকে ইসরায়েলের লিকুদ পার্টির সদস্য সাফাদি তার সরকারের উপমন্ত্রী এম কে আয়ুব কারা’র উপদেষ্টা। সাফাদি সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল ডিপ্লোমেসি অ্যান্ড পাবলিক রিলেশনস নামে একটি লবিং প্রতিষ্ঠান চালানোর পাশাপাশি মোসাদের এজেন্ট হিসেবেও নিযুক্ত।
রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে বিএনপি সেসময় দাবি করে, আসলামের সফরটি ছিল ‘ব্যক্তিগত’। যদিও আসলাম বা সাফাদি কেউই ভারতে তাদের সাক্ষাতের কথা অস্বীকার করেননি। আদতে অস্বীকার করার উপায়ও ছিল না। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার কাছে তাদের সাক্ষাতের বিস্তারিত তথ্য ছিল। সেসময় এই সাক্ষাতের ছবি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
তৎকালীন পুলিশের আইজিপি একেএম শহীদুল হক সাংবাদিকদের জানান, মেন্দি এন সাফাদির সঙ্গে চুক্তি করার কথা আসলাম জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
আইজিপি আরও জানান, ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের এজেন্ট সাফাদির সঙ্গে আসলাম চৌধুরী একাধিক বৈঠক করেছেন ভারতে। জিজ্ঞাসাবাদে আসলাম চৌধুরী যেসব তথ্য উপাত্ত দিয়েছেন, তাতে স্পষ্ট প্রতীয়মান হয়, তিনি রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে সস্পৃক্ত ছিলেন।
চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকা নিজস্ব সূত্রের বরাতে সেসময় জানায়, আসলাম চৌধুরী সরকার পতন ষড়যন্ত্রের তথ্য দিয়েছেন জিজ্ঞাসাবাদে। তিনি বলেছেন ডিসেম্বরের মধ্যে (২০১৬) আওয়ামী লীগ সরকারকে উৎখাত করতে নানামুখী চেষ্টা চলছে। এতে মোসাদকে কাজে লাগাতেই সাফাদির সঙ্গে বৈঠক করা হয়।
আসলাম চৌধুরী সেসময় মোসাদের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের একটি তালিকাও গোয়েন্দা পুলিশকে দেন। আসলাম চৌধুরী গোয়েন্দাদের কাছে দাবি করেন, তিনি স্বেচ্ছায় মোসাদ এজেন্টের সঙ্গে বৈঠক করেননি, তাকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছিল ভারতে।
কারাগারে থাকা অবস্থাতেই রাতারাতি বাড়তে শুরু করে আসলাম চৌধুরীর সম্পদের পরিমাণ
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য দাখিলকৃত হলফনামায় বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর সম্পদ বিবরণীতে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।
আসলাম চৌধুরী, তার স্ত্রী জমিলা নাজনীন মওলা ও কন্যা মেহেরিন আনহার উজমার আয়ের উৎস হিসেবে উল্লেখ করেছেন ব্যবসা এবং শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র। আসলাম ব্যবসা থেকে বছরে ৪৮ লাখ ৩৭ হাজার টাকা এবং শেয়ার, বন্ড ও সঞ্চয়পত্র থেকে আয় দেখান ৫ হাজার ৩৪১ টাকা।
২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, আসলামের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ ৭১ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ২৪ লাখ টাকা। আর এবারের হলফনামা অনুযায়ী, তার অস্থাবর সম্পদ ২৬ কোটি ১৬ লাখ ৭৭ হাজার টাকার এবং স্থাবর সম্পদ ৪৩০ কোটি ৭৮ লাখ টাকার। অর্থাৎ মোট সম্পদ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ১৭ বছরে মোট সম্পদ বেড়েছে ৪৫৪ কোটি টাকারও বেশি।
২০০৮ সালের হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর নিজ নামে নগদ অর্থ ছিল ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। এখন তা ১১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। যা আগের তুলনায় ১৬৫ গুণ বেশি। ১৭ বছর আগে তার স্ত্রীর হাতে ছিল ৩ লাখ ৭২ হাজার টাকা। এখন রয়েছে ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে তার কন্যার কোনো নগদ টাকা ছিল না, এখন নগদ আছে ৩ কোটি ৩৩ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
১৭ বছর আগে শেয়ার ও সঞ্চয়পত্র খাতে নিজ নামে ১৭ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্ত্রীর নামে ৮৫ লাখ ৬৭ হাজার ৫০০ টাকার বিনিয়োগ দেখান আসলাম চৌধুরী। এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে যথাক্রমে ৯ কোটি ৯৯ লাখ ও ৪ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।
২০০৮ সালে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে আসলাম চৌধুরীর নিজ নামে জমা ছিল ১৭ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং স্ত্রীর নামে ছিল ৩০ লাখ ৪৫ হাজার টাকা। এখন তার পরিমাণ যথাক্রমে ১ লাখ ২৩ হাজার ও ১৬ লাখ ২৭ হাজার টাকা। আগে কন্যার নামে কোনো জমা না থাকলেও এখন রয়েছে ৫৪ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
বিভিন্ন ব্যাংকে আসলাম চৌধুরীর ঋণ ৩৪৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা। ব্যক্তিগত দেনা রয়েছে ৮ কোটি ৯০ লাখ টাকা। ২০০৮ সালে তার ব্যক্তিগত দায় ছিল ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা।
হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর স্ত্রী জমিলার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ১৩ হাজার ৭০০ টাকা। কন্যাও আয় করেন ৯ লাখ ৭ হাজার ৯৭০ টাকা। ২০০৮ সালে কন্যার আয় ছিল না। তখন আসলাম চৌধুরী স্ত্রীর আয় দেখিয়েছিলেন ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এবার জমিলার অস্থাবর সম্পদ দেখানো হয়েছে ১২ কোটি ৩২ লাখ ১২ হাজার টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৬ কোটি ১০ লাখ ৯১ হাজার টাকার। কন্যার অস্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। ২০০৮ সালের স্ত্রীর অস্থাবর সম্পদ ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ৮৪ হাজার ৬৫২ টাকা।
ইসরায়েল-বিএনপি সংযোগ নতুন নয়
ইসরায়েল, গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ এবং বিএনপির সম্পর্ক নতুন কিছু নয়। এর আগেও কয়েক দফা মোসাদ এজেন্টের মাধ্যমে ইসরায়েলের সাথে বিএনপির নেতৃবৃন্দের যোগাযোগ হয়েছে বলে স্বীকার করেছেন খোদ সাফাদি নিজেই।
বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে গণ অধিকার পরিষদের নেতা নূরুল হক নুর দুবাই সফরে গিয়ে মেন্দি এন সাফাদির সাথে সাক্ষাৎ করে গণমাধ্যমের চোখে ধরা পড়ে গেলে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। এ নিয়ে শুরুতে নুর অস্বীকার করলেও পরে তথ্য-প্রমাণে সত্যতা মেলে। সেসময় মেন্দি এন সাফাদির সাথে বিএনপির কয়েকজন নেতার সাক্ষাৎকারের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।
ওই ভিডিওতে মেন্দি এন সাফাদির সামনে থাকা তার ব্যক্তিগত কম্পিউটারের স্ক্রিনে ভিডিও কল করা অবস্থায় তারেক রহমানকে দেখতে পাওয়া যায়। সাফাদিও পরবর্তীতে গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার তারেক রহমানের সাথে তার একাধিকবার বৈঠক হয়েছে।
ভিডিওতে তারেক রহমানকে উদ্দেশ করে সাফাদিকে বলতে শোনা যায়, ‘শুভ সকাল তারেক রহমান। আমি মেন্দি। আপনার প্রতিনিধি দলের সঙ্গে আমার সাক্ষাৎ হয়েছে। আমরা বাংলাদেশের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমি মনে করি, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা নিয়ে আমি কাজ করছি। যেসব তথ্য আমি চেয়েছি এবং যেগুলো পেয়েছি; সব বিষয়েই আমাদের আলোচনা হয়েছে। আমাদের মিশন সম্পর্কে কথা হয়েছে।’
তারেক রহমানকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে সাফাদি বলেন, ‘সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আমার পেছনে যে টিম রয়েছে, তারা আমাদের মিশন সফল করার জন্য কাজ করছে। এ টিম বাংলাদেশের মানুষের মুক্ত জীবন ও গণতন্ত্র নিশ্চিত করবে।’
তারেক রহমানকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনারও আশ্বাস দিয়েছেন মেন্দি সাফাদি। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, এ টিম আপনাকে বাংলাদেশের নেতা হিসেবেও প্রত্যাবর্তন করাবে।’ লন্ডনে পলাতক তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে সাফাদি বলেন, ‘ধন্যবাদ। আশা করি, আপনার সঙ্গে খুব শিগগিরই লন্ডনে দেখা হবে।’
মনোনয়নের দৌড়ে হারিয়ে দিলেন তুলনামূলক ক্লিন ইমেজের প্রার্থীকে
গত বছরের ৩রা নভেম্বর চট্টগ্রাম–৪ (সীতাকুণ্ড ও চট্টগ্রাম নগরের আংশিক) আসনে দলীয় প্রার্থী হিসেবে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা শাখার সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক কাজী মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের নাম ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। নির্বাচনে অংশ নিতে গত ১৮ই ডিসেম্বর তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। তুলনামূলক ক্লিন ইমেজের অধিকারী এবং স্থানীয়ভাবে জনবান্ধব এবং কর্মীদের কাছেও জনপ্রিয় কাজী সালাউদ্দিন।
অন্যদিকে আসলাম চৌধুরী এলাকায় মাফিয়া গডফাদার হিসেবে আগে থেকেই ভয়ঙ্কর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, অপহরণ, সন্ত্রাসী লালন-পালনসহ সকল ধরনের অপকর্মে তার নাম জড়িত বিএনপি-জামায়াত শাসনামল থেকেই। ২০০২ সালে জিয়া পরিষদের বরাতে বিএনপির রাজনীতিতে অভিষেক হওয়ার পর থেকে তিনি এলাকায় ‘মাফিয়া ডন’ হিসেবে খ্যাতি পান। সাফাদিকাণ্ড তাকে অন্য এক ভয়ঙ্কর পরিচিতি এনে দেয়।
২০২৪ সালের ২০শে আগস্ট জেল থেকে বেরিয়ে আসার পর এলাকায় মামলা বাণিজ্য, চাঁদাবাজি-দখলবাজিসহ বিভিন্ন অপরাধে পুনরায় তিনি এবং তার ভাইসহ পরিবারের সদস্যদের নাম উঠে আসে। কাজী সালাউদ্দিনকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেওয়া হলে তিনি দলের হাইকমান্ডকে হুমকি-ধমকি দিয়েছেন বলেও গুঞ্জন শোনা যায় রাজনৈতিক মহলে। ফলশ্রুতিতে বিএনপির হাইকমান্ড প্রার্থী বদলাতে বাধ্য হয়।
তারেক রহমানের একান্ত আস্থাভাজন হওয়ায় আসলাম চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয় কাজী সালাউদ্দিনকে বাদ দিয়ে, এমনটা নিশ্চিত করেছে বিএনপির দলীয় একাধিক সূত্র। যদিও বিরোধীদের দাবি, আসলাম চৌধুরী বিশেষভাবে তারেক রহমানকে ‘সন্তুষ্ট’ করে দেওয়াতেই তার ভাগ্যে শিকে ছিঁড়েছে। যদিও চট্টগ্রাম–৪ আসনের বিএনপির ভোটারদের সন্তুষ্টির কোনো ইঙ্গিত মেলেনি এই পরিবর্তনে।





