মোদিকে ভেনেজুয়েলার মতো পাকিস্তানে অভিযান চালানোর তাগিদ ভারতীয় মুসলিম নেতার

মোদিকে ভেনেজুয়েলার মতো পাকিস্তানে অভিযান চালানোর তাগিদ ভারতীয় মুসলিম নেতার
শেয়ার করুন

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আমেরিকান স্পেশাল ফোর্সের অভিযানে গ্রেপ্তার করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর ভারতের রাজনৈতিক মহলে তুমুল আলোড়ন পড়ে গেছে। এই ঘটনাকে উদাহরণ টেনে এআইএমআইএম প্রধান ও সংসদ সদস্য আসাদউদ্দিন ওয়াইসি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পাকিস্তানে অনুরূপ অভিযান চালিয়ে ২৬/১১ মুম্বাই হামলার মাস্টারমাইন্ডদের ভারতে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিয়েছেন।

গত ৩রা জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ‘অপারেশন অ্যাবসলুট রিসলভ’ নামে এক বিশাল সামরিক অভিযানে ভেনেজুয়েলায় এয়ারস্ট্রাইক চালিয়ে মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদুরোকে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে ড্রাগ ট্রাফিকিং ও নার্কো-টেররিজমের অভিযোগে মামলা চলবে।

এই ঘটনার পরদিনই মুম্বাইয়ে এক নির্বাচনী জনসভায় ওয়াইসি বলেন, ‘আজ শুনলাম ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর নিজের দেশ থেকে তুলে নিয়ে আমেরিকায় নিয়ে গেছে। যদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে তাঁর দেশ থেকে তুলে নিতে পারেন, তাহলে আপনি (মোদি) পাকিস্তানে গিয়ে ২৬/১১ সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারীদের ভারতে ফিরিয়ে আনতে পারেন।”

’ওয়াইসি আরও বলেন, ‘মোদিজি, ৫৬ ইঞ্চির ছাতি আছে, তাহলে মাসুদ আজহার বা লস্কর-ই-তৈয়বার নৃশংস শয়তানদের পাকিস্তান থেকে তুলে এনে দেখান না কেন? ট্রাম্প যদি পারে, তাহলে আপনি কম কীসে?’

তিনি প্রধানমন্ত্রী মোদি, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিসকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।

ওয়াইসির এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিজেপি। ইউনিয়ন মন্ত্রী রামদাস আঠাওলে বলেন, ‘মোদিজি যদি যুদ্ধ চাইতেন, তাহলে পাকিস্তানের মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হতো।’

বিজেপি নেতারা জানান, ভারত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে দায়িত্বশীল দেশ হিসেবে টার্গেটেড অপারেশন করে—দেশ নয়, সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে।

আন্তর্জাতিক মহলেও মাদুরো গ্রেপ্তার নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে এটাকে ‘জঙ্গলের আইন’ বলে সমালোচনা করেছেন, আবার কেউ কেউ ট্রাম্পের সাহসিকতার প্রশংসা করেছেন।

তবে ভারতে এই ঘটনা রাজনৈতিক বিতর্ককে নতুন মাত্রা দিয়েছে—যেই মুসলমানিয়াত আর উম্মাহর দোহাই দিয়ে পাকিস্তান ভারতের ওপর জঙ্গি হামলা চালায়, তার প্রতিবাদে ভারতের মুসলিমরাই পাকিস্তানকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করে। দেশাত্ববোধ আর দেশপ্রেমের যখন থাকে তখন ধর্মীয় পরিচয় শত্রু মিত্র নির্ধারন করে না, ওয়াইসির এই বক্তব্য সেটা আবার দেখিয়ে দিল।

দেশের প্রশ্নে ভারতের হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ শিখ সব এক হয়ে যায়, যা ভারতের অখন্ডতা রক্ষায় সবচেয়ে বড় শক্তি।

Visited 16 times, 1 visit(s) today