“সৎ লোকের শাসন” দলের নীরব ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংঃ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গোপন ট্রাম্প কার্ড

“সৎ লোকের শাসন” দলের নীরব ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংঃ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের গোপন ট্রাম্প কার্ড
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ১ জানুয়ারি ২০২৬: বাংলাদেশের আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী একটি নীরব ও সুসংগঠিত ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এ নির্বাচনে জামায়াতের লক্ষ্য অন্তত ১৬৫টি আসন দখল করা। দলটির একটি কেন্দ্রীয় থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সেপ্টেম্বর ২০২৪ থেকে এই রোডম্যাপ তৈরি করছে, যাতে ভোটার স্থানান্তর, সোশ্যাল মিডিয়া প্রচারণা এবং ঐতিহাসিক বিতর্কিত ইস্যুতে নরম অবস্থান গ্রহণের মতো কৌশল অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সূত্রমতে, ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে জামায়াত একটি সুনির্দিষ্ট ভোটার স্থানান্তর কর্মসূচি শুরু করেছে। আসনগুলোকে জয়ের সম্ভাবনা অনুসারে শ্রেণিবিভাগ করা হয়েছে: নিশ্চিত জয়, ৮০% সম্ভাবনা, ৬০% সম্ভাবনা, ৫০-৫০ এবং নিশ্চিত পরাজয়। দুর্বল আসন থেকে সমর্থকদের ভোটার আইডি স্থানান্তর করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ আসনে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে।

ঢাকায় ১২টি আসনে, প্রতিটিতে ভোটার সংখ্যা ৩৫ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার পর্যন্ত বাড়ানোর লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা নিজ এলাকায় থেকেই শুধু ঠিকানা পরিবর্তন করছেন এবং নির্বাচনের ৩-৪ দিন আগে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হবেন, যার জন্য আগাম থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে।

জামায়াতে ইসলামীর নিশ্চিত পরাজয়ের আসন থেকে ৫০-৭৫% ভোটারকে ইতিমধ্যে কাগজপত্রে স্থানান্তর করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

এই কৌশলের পেছনের উদ্দেশ্য হলো, রাজধানী ঢাকা দখল করলে সরকার গঠন সহজ হবে—এমন একটা বহুল প্রতিষ্ঠিত ধারনা। বিএনপি-প্রভাবিত আসনে ভোটার কমিয়ে এবং জোটসঙ্গীদের সাথে শেয়ারযোগ্য আসনে বাড়িয়ে ভোট ব্যালেন্স করা হচ্ছে।

নির্বাচনের শেষ ১৫ দিনে সোশ্যাল মিডিয়ায় জোরালো আক্রমণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতি জেলায় ১০০-১৫০টি প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্ম (ফেসবুক, টিকটক, ইউটিউব ইত্যাদি) নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে আর্থিক প্রণোদনার মাধ্যমে। এগুলো দিয়ে জামায়াত প্রার্থীদের প্রচার, প্রতিদ্বন্দ্বীদের অপপ্রচার এবং অনিশ্চিত ভোটারদের প্রভাবিত করা হবে।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে দলের বিতর্কিত ভূমিকা নিয়ে জনমনে আপত্তি দূর করতে জামায়াতের সব প্রার্থী ও শীর্ষ নেতারা নির্বাচনের আগে প্রকাশ্য ক্ষমা চাইবেন। ভোটারদের উদ্দেশে তাদের বার্তা হবে:

বর্তমান প্রার্থীরা তখন দলে ছিলেন না, অধিকাংশ শিশু ছিলেন; বর্তমান প্রজন্মকে অতীতের জন্য দায়ী করা উচিত নয়; জামায়াতকে জাতি সেবার সুযোগ দেওয়া হোক।

যদিও সাম্প্রতিককালে দলের আমির ড. শফিকুর রহমান একটি অস্পষ্ট ক্ষমা প্রকাশ করেছেন, তবে সেটা ১৯৭১-এর নির্দিষ্ট ভূমিকা উল্লেখ না করে।

মহিলাদের মধ্যে জামায়াতের ধর্মীয় আদর্শ নিয়ে ভয় দূর করতে দলটি যেই সকল কৌশল অবলম্বনের পরিকল্পনা করেছে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেঃ

  • ক্ষমতায় এলে মহিলাদের পোশাকে কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, শালীনতা বজায় রাখলেই হবে;
  • নারীরা যেকোনো সেক্টরে কাজ করতে পারবেন;
  • নারীরা যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অনুসারে পুরুষের সমান বেতন পাবেন।

এটি দলের ভাবমূর্তি গ্রহনোযোগ্য করার কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, এসব কৌশল নির্বাচনী লড়াইকে প্রভাবিত করতে পারে, কারণ জামায়াতের জনসমর্থন বাড়ছে এবং তারা বিভিন্ন ইসলামী দলের সাথে জোট গঠন করেছে। তবে এ ধরনের ভোটার স্থানান্তর নির্বাচনী আইন লঙ্ঘনের শামিল হতে পারে, যা নির্বাচন কমিশনের নজরে আসা উচিত। নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, জামায়াতের এই নীরব ইঞ্জিনিয়ারিং ততই আলোচনার বিষয় হয়ে উঠছে।

Visited 55 times, 1 visit(s) today