হাদীর সমর্থকদের লুটপাট করতে দিয়ে ফায়ার এক্সিট দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন সেনা সদস্যরা

হাদীর সমর্থকদের লুটপাট করতে দিয়ে ফায়ার এক্সিট দিয়ে সাংবাদিকদের উদ্ধার করেন সেনা সদস্যরা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদীর মৃত্যুর খবরে তার সমর্থকদের হামলা-আগুন-লুটপাট-ভাঙচুরে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের নামে ঘটনাস্থলে থাকা সেনা সদস্যরা একদিকে হামলাকারীদের লুটপাটের সুযোগ করে দিয়ে আটকা পড়া সাংবাদিকদের ভবনের পেছন দিকে ফায়ার এক্সিট দিয়ে বের করে আনেন।

ওসমান হাদীর মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষিতে ভারতের সাথে সাথে অদ্ভূত সম্পৃক্ততার দাবি তুলে উগ্রবাদী ইউটিউবার ইলিয়াসসহ কয়েকজনের উস্কানিতে প্রথম আলো এবং ডেইলি স্টারে এমন হামলা-ভাঙচুর, আগুন ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়।

বৃহস্পতিবার রাতে হাদীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সৃষ্ট উস্কানিতে প্রথমে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এরপর হাদীর উগ্রবাদী সমর্থকরা ডেইলি স্টার ভবনের দিকে অগ্রসর হয়। বাইরে থেকে ফোনে সতর্কবার্তা পেয়ে ভবনের ভেতরে থাকা কর্মীরা নিচে নামার চেষ্টা করলেও ততক্ষণে নিচতলায় ভাঙচুর শুরু হয়ে যায় এবং এক পর্যায়ে আগুন দেওয়া হয়।

ধোঁয়ায় নিচে নামা অসম্ভব হয়ে পড়লে সংবাদকর্মীদের একটি অংশ দশতলার ছাদে আশ্রয় নেন। সেখানে মোট ২৮ জন আটকা পড়েন বলে জানান ডেইলি স্টার-এর এক সাংবাদিক। তিনি বলেন, সবাই চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার মধ্যে ছিলেন।

এক পর্যায়ে ভবনের ক্যান্টিন বয় ছাদ থেকে ফায়ার এক্সিটের মই বেয়ে নামার চেষ্টা করলে নিচে নেমেই তিনি হামলাকারীদের হাতে মারধরের শিকার হন। এ ঘটনার পর আর কেউ নামার সাহস পাননি।

পরে ফায়ার সার্ভিস এসে নিচতলার আগুন নেভায় এবং চারজন ফায়ার ফাইটার ছাদে ওঠেন। তারা জানান, নিচে সেনাবাহিনী রয়েছে এবং নামা নিরাপদ। তবে নিচে হামলাকারীদের ভাঙচুর অব্যাহত থাকায় কেউ নামতে রাজি হননি। এ সময় হামলাকারীদের কয়েকজন ছাদে উঠে দরজায় ধাক্কা দিলে আতঙ্ক আরও বেড়ে যায়। ছাদে থাকা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরাও ভীত হয়ে পড়েন।

আটকে পড়া সাংবাদিকরা ছাদের গাছের টব জড়ো করে দরজা আটকে রাখার চেষ্টা করেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নূরুল কবীর এবং আলোকচিত্রী শহিদুল আলম ভবনের নিচে গিয়ে হামলাকারীদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন। তবে নূরুল কবীর সেখানে হেনস্তার শিকার হন। তার লম্বা চুল এবং জামাকাপড় ছেঁড়ার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে।

এরপর ভবনের নিচে অবস্থানরত সেনা সদস্যরা কৌশলে এক পাশের সিঁড়ি খুলে দিয়ে হাদীর সমর্থকদের ভবনের বিভিন্ন তলায় ভাঙচুর ও লুটপাটের সুযোগ করে দেন। এই সুযোগে ছাদে ও ভবনের ভেতরে আটকা পড়া ডেইলি স্টার কর্মীদের ফায়ার এক্সিটের সিঁড়ি দিয়ে নামিয়ে পেছনের দিক দিয়ে বের করে দেওয়া হয়। তখন সময় ভোর পৌনে ৪টা।

একজন সাংবাদিক বলেন, “কপাল ভালো, বড় বিপদ থেকে বেঁচে গেছি। জানি না দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।”

এ ঘটনার সময় ডেইলি স্টার-এর সিনিয়র রিপোর্টার জাইমা ইসলাম ফেসবুকে লিখেন, “আমি আর শ্বাস নিতে পারছি না। অনেক ধোঁয়া। আমি ভেতরে। তোমরা আমাকে মেরে ফেলছো।”

এদিকে একই রাতে উত্তরার এক আওয়ামী লীগ নেতার বাসায়ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার ভবন পরিদর্শন করেন। তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার আব্দুল্লাহ আল ইমরান জানান, আইজিপি সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত হন।

Visited 18 times, 1 visit(s) today