রামুতে বিপুল সামরিক সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৩, জিজ্ঞাসাবাদে মিলল ভয়াবহ তথ্য

রামুতে বিপুল সামরিক সরঞ্জামসহ গ্রেপ্তার ৩, জিজ্ঞাসাবাদে মিলল ভয়াবহ তথ্য
শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

কক্সবাজারের রামুতে পুলিশের বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্রের সামরিক সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একটি মিনি পিকআপ গাড়িসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গত ১৭ই ডিসেম্বর, বুধবার দিবাগত রাতে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর গুরুত্বপূর্ণ ও উদ্বেগজনক তথ্য পাওয়ায় বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানায় পুলিশ।

পুলিশ জানায়, ১৬ই ডিসেম্বর গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়—কয়েকজন ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানরত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে আগ্নেয়াস্ত্রের সরঞ্জাম পৌঁছে দিতে রামু হয়ে নাইক্ষ্যংছড়ির দিকে যাচ্ছিল। এ তথ্যের ভিত্তিতে রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়ার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল রাত ১টা ৪৫ মিনিটে জোয়ারিয়ানালা ইউনিয়নের চা বাগান–নাইক্ষ্যংছড়ি সড়কের মুখে অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করে।

এ সময় একটি মিনি পিকআপ চেকপোস্ট অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ থামার সংকেত দেয়। সংকেত উপেক্ষা করে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া দিয়ে গাড়িসহ তিনজনকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি চালিয়ে ৩২টি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা থেকে ১ হাজার ৬০০টি আগ্নেয়াস্ত্রের ম্যাগাজিনের বাউন্ডলি উদ্ধার করা হয়।

উল্লেখ্য, বাউন্ডলি হচ্ছে অস্ত্রের ম্যাগাজিন গুঁজে রাখার পকেট বিশেষ, যা সামরিক পোশাকের ওপর বেঁধে পরিধান করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা স্বীকার করেছে, উদ্ধার হওয়া সরঞ্জামগুলো মিয়ানমার সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থানরত একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে সরবরাহের উদ্দেশ্যেই বহন করা হচ্ছিল।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার কম্বনিয়া গ্রামের ৭নং ওয়ার্ডের নুরুল আলমের ছেলে মো. শাহজাহান (২৫), বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার আশারতলী গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের বদিউজ্জামানের ছেলে মো. ইলিয়াছ (১৯), বান্দরবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ঘিলাতলী গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের এম এ সামাদের ছেলে আতিকুর রহমান (২৫)।

পুলিশ সূত্র জানায়, তারা দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম ও ঢাকার বিভিন্ন গার্মেন্টস থেকে পোশাক সংগ্রহ করে সীমান্তপথে সশস্ত্র গোষ্ঠীর কাছে পাচার করত। পাশাপাশি ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীও সরবরাহ করত। আধুনিক প্রযুক্তি ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়।

এ ঘটনায় রামু থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯ (সংশোধিত ২০১৩) অনুযায়ী মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত আলামতের মধ্যে রয়েছে ১ হাজার ৬০০টি ম্যাগাজিন বাউন্ডলি ও একটি মিনি পিকআপ গাড়ি।

রামু থানার ওসি মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, গ্রেপ্তাররা একাধিকবার গাড়ির নম্বর প্লেট পরিবর্তন করেছে এবং পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে দিক পরিবর্তনের চেষ্টা করেছিল। কক্সবাজার থেকে নাইক্ষ্যংছড়ির পথে ঢোকার আগেই তাদের আটক করা সম্ভব হয়।

কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ এন এম সাজেদুর রহমান বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছে সরঞ্জাম সরবরাহ দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ঘটনায় জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মূল হোতাসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানাল পুলিশ।

Visited 20 times, 1 visit(s) today