ইউনূস সরকারের ‘সুযোগ-সুবিধা’ ঘোষণা কাগজে-কলমে, বাস্তবে চলছে লুটপাটের মহোৎসব
নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড রেমিট্যান্স যোদ্ধারা বিদেশের কঠোর পরিশ্রমের টাকায় কেনা উপহার নিয়ে ফিরছেন দেশে। কিন্তু হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে দুঃস্বপ্ন। প্লেন থেকে লাগেজ বেল্টে আসার আগেই চুরি, তারপর কাস্টমস-সিকিউরিটির নামে জিনিসপত্র তছনছ করে “চালানের মাল” দেখিয়ে জরিমানা আদায় অথবা মাল কেড়ে নেওয়া – এখন এটাই নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা।
গত বছর আগস্টে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় এসে সবচেয়ে বড় যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল তা হলো – “প্রবাসীদের হয়রানি বন্ধ হবে, রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়বে”। ১৫ মাস পেরিয়ে গেলেও একটা কফিশপ উদ্ভোধন বাদে বাস্তব চিত্র তার ঠিক উল্টো। সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিদিনই ভাইরাল হচ্ছে প্রবাসীদের কান্নার ভিডিও। অনেকেই লিখছেন, “আওয়ামী লীগের আমলেও এতটা হয়রানি হয়নি।”
সাম্প্রতিক কিছু ভাইরাল ঘটনা (সবই গত ১৫ দিনের মধ্যে):
১. ৫ ডিসেম্বর, সৌদি আরব ফেরত যাত্রী মো. রফিকুল ইসলামের ভিডিও
তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলছেন, “৭টা লাগেজের মধ্যে ৪টাই কাটা। ২টা আইফোন ১৬ প্রো ম্যাক্স, ৩টা ল্যাপটপ, বাচ্চাদের ২০টা দামি খেলনা – সব গায়েব। কাস্টমস আবার ২ ঘণ্টা আটকে রেখে বাকি জিনিসও তছনছ করেছে।”
২. ৩ ডিসেম্বর, দুবাই ফেরত শ্রমিক আব্দুল মজিদ
ফেসবুকে লাইভ করে দেখান, তার লাগেজের তালা ভাঙা, ৩টা স্যামসাং গ্যালাক্সি জেড ফোল্ড, ১৫টা দামি পারফিউম উধাও। কাস্টমস তাকে “চালানের মাল” বলে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জরিমানা করে ছেড়েছে।
৩. ৩০ নভেম্বর, ওমান ফেরত আল আমিন
তার ভিডিওতে দেখা যায়, কাস্টমস কর্মকর্তা তার স্যুটকেস খুলে বাচ্চাদের জন্য আনা চকলেট, কসমেটিকস মেঝেতে ফেলে দিচ্ছেন। শেষে ৪টা আইফোন ও ২টা ম্যাকবুক রেখে দিয়ে বলা হয়, “চালানের মাল, বিক্রি করতে এনেছেন”।
৪. ২৮ নভেম্বর, কুয়েত ফেরত নারী যাত্রী ফাতেমা আক্তার
তার লাগেজ থেকে ১২টা দামি শাড়ি ও গয়না চুরি। কাস্টমস তাকে ৩ ঘণ্টা আটকে রেখে বাকি মালামাল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে দেয়। তিনি কাঁদতে কাঁদতে বলেন, “১২ বছর পর দেশে ফিরলাম, এই বরণ!”
প্রবাসীরা জানাচ্ছেন, বিশেষ করে গরিব, সাধারণ শ্রমিকদেরই টার্গেট করা হচ্ছে। যারা প্রতিবাদ করতে পারে না, তাদের লাগেজই বেশি খোলা হচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র লাগেজ হ্যান্ডলিং থেকে কাস্টমস পর্যন্ত কাজ করছে বলে অভিযোগ।
প্রবাসীদের প্রশ্ন একটাই – “যে সরকার রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সম্মান দেওয়ার কথা বলে ক্ষমতায় এসেছিল, তারা কি এই লুটপাট বন্ধ করতে পারছে না, নাকি পারছে না বলে চুপ করে আছে?”
যতদিন এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়া হবে, ততদিন প্রবাসীদের কান্নার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হতেই থাকবে। আর দেশের অর্থনীতির এই সৈনিকরা বিমানবন্দরে এসে বুঝতে পারবেন – তাদের রেমিট্যান্স দিয়ে যে দেশ চলছে, সে দেশে তাদের জন্য অপেক্ষা করছে শুধুই অপমান আর লুটপাট।
