“চিনিকল বাঁচাতেও বিদেশিদের দরকার”: এবার কি তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলও ঢুকছে বিদেশিদের পকেটে?

“চিনিকল বাঁচাতেও বিদেশিদের দরকার”: এবার কি তবে রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলও ঢুকছে বিদেশিদের পকেটে?
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাটোরের উত্তরা গণভবন পরিদর্শন শেষে আজ ৬ই ডিসেম্বর, শনিবার শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, দেশের চিনিকলগুলো লাভজনক করতে শুধু সরকারি ভর্তুকি দিয়ে চলবে না, স্থানীয় ও বিদেশি বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, এরইমধ্যে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে যোগাযোগ চলছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ইতিবাচক অগ্রগতি দেখা যাবে।

উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি আরও বলেন, বিদেশ থেকে চিনি আমদানি আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। চিনিকলে মজুদ চিনি টিসিবির মাধ্যমে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, দীর্ঘমেয়াদে শুধু চিনি উৎপাদন নয়, পার্শ্বপণ্য উৎপাদন এবং বেসরকারি-বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া চিনিকলগুলো টিকিয়ে রাখা সম্ভব না।

২০২৪ সালের ১৫ই নভেম্বরে নাটোরের লালপুরে নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের আখ মাড়াই কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় তিনিই জোর গলায় আশ্বাস দিয়েছিলেন, “দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত খাতের বন্ধ হয়ে যাওয়া ৬টি চিনিকল আবার চালু করা হবে। এজন্য একটি টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হয়েছে।”

সেদিন তিনি বলেছিলেন, কমিটি প্রতিবন্ধকতাগুলো চিহ্নিত করছে এবং শিগগিরই বন্ধ মিলগুলো চালু হবে।

কিন্তু একবছর বাদেই সেই সুর পাল্টে গেল। চিনি শিল্প কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নতুন মৌসুমে বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করতে তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কাছে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি দিয়েছিলেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো বরাদ্দই ছাড় হয়নি। বরং শিল্প মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা হচ্ছে – “বিদেশি ও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে” মিলগুলো চালাতে হবে।

ফলে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে – চট্টগ্রাম বন্দর, এনসিটি, লালদিয়া, মংলা বন্দর, পানগাঁও ও পায়রা বন্দরের মতো জাতীয় সম্পদ যেভাবে বিদেশি কোম্পানির কাছে পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, এবার কি সেই তালিকায় যুক্ত হতে যাচ্ছে ব্রিটিশ আমলের ঐতিহ্যবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত চিনিকলগুলো?

সমালোচকরা বলছেন, এক বছর আগে “বন্ধ চিনিকল চালু করব” বলে জনগণকে আশ্বস্ত করা হয়েছিল। এখন সেই আশ্বাসের বদলে শোনা যাচ্ছে বিদেশি বিনিয়োগের কথা। এটা স্পষ্টতই জাতীয় সম্পদ বিক্রি বা হস্তান্তরের প্রক্রিয়ার অংশ।

অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকারপন্থী মহলের দাবি, লোকসানি প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখতে বিদেশি বিনিয়োগ ছাড়া বাস্তবসম্মত কোনো পথ নেই।

তবে চিনি আমদানি কেন বন্ধ রাখা হলো কিংবা চিনি আমদানি বন্ধ রেখে কীভবে অচল রাষ্ট্রয়াত্ত চিনিকলগুলো খোলা সম্ভব, সে ব্যাপারে বিশ্লেষকরা নিজেরাই উত্তর খুঁজে পাচ্ছেন না।

Visited 24 times, 1 visit(s) today