ন্যায্য আন্দোলনের কারণে ভিন্ন জেলার দুর্গম এলাকায় শিক্ষকদের অমানবিক বদলি

ন্যায্য আন্দোলনের কারণে ভিন্ন জেলার দুর্গম এলাকায় শিক্ষকদের অমানবিক বদলি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবির আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া পাঁচ শিক্ষক নেতা এবং বিভিন্ন জেলার আরও ৪২ জন সহকারী শিক্ষক ও একজন প্রধান শিক্ষককে আন্দোলনের কারণে অন্যায়ভাবে নিজ জেলা থেকে অন্য জেলার দুর্গম এলাকায় বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত দুই দিনে নোয়াখালী জেলার সব সহকারি শিক্ষক এবং ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকদের কারণ দর্শানোর নোটিশও দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রাথমিক শিক্ষকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। ন্যায়সঙ্গত আন্দোলনের টুঁটি চেপে ধরা এবং অন্যায়ভাবে বদলির ঘটনায় আন্দোলনরত শিক্ষকরা ক্ষুব্ধ ও হতাশ

বদলি হওয়া পাঁচ শিক্ষক নেতা হলেন, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (কাসেম-শাহীন), বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির (শাহিন-লিপি) সাধারণ সম্পাদক খায়রুন নাহার লিপি, প্রাথমিক শিক্ষক দাবি বাস্তবায়ন পরিষদের নেতা মু. মাহবুবুর রহমান এবং মো. আনোয়ার উল্যা।

বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. শামছুদ্দিন মাসুদ জানান, বিভিন্ন জেলার মোট ৪২ জন সহকারী শিক্ষককে বদলি করা হয়েছে। নোয়াখালীর সব শিক্ষকসহ দেশের আরও কিছু শিক্ষকের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে। আরেক নির্দেশনায় বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (কাসেম-শাহীন) সভাপতি ও প্রধান শিক্ষক মো. আবুল কাসেমকে ময়মনসিংহ থেকে বরিশালে বদলি করা হয়েছে।

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার যে আদেশ জারি করে, তাতে ঢাকা, নোয়াখালী, পটুয়াখালী, কিশোরগঞ্জ, রাজবাড়ী, জয়পুরহাট ও ময়মনসিংহসহ বিভিন্ন জেলার সহকারী শিক্ষকদের নতুন কর্মস্থলে পদায়ন করা হয়েছে।

এটা নিয়োগবিধির লঙ্গন বলে অভিযোগ করেছেন শিক্ষকরা। কারণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্থানীয় শিক্ষকদেরই নিয়োগ দেয় সরকার। তাই তাদেরকে বদলি বিধি বহির্ভূত বলে মনে করেন তারা।

উল্লেখ্য, দশম গ্রেডসহ তিন দফা দাবিতে ৮ই নভেম্বর থেকে শিক্ষকরা অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন এবং ৯ই নভেম্বর থেকে কর্মবিরতি পালন করেন। ১১তম গ্রেডের আশ্বাস পেয়ে আন্দোলন স্থগিত করেন তারা। কিন্তু নভেম্বর মাসে এ বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় ৩০শে নভেম্বর থেকে পুনরায় কর্মবিরতি শুরু হয়।

১লা ডিসেম্বর থেকে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন বর্জন করেন শিক্ষকরা। ৩রা ডিসেম্বর থেকে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণার পর তা পরে প্রত্যাহার করা হয়। আগামী রোববার (৭ই ডিসেম্বর) থেকে তৃতীয় প্রান্তিক মূল্যায়ন শুরু হবে।

Visited 20 times, 1 visit(s) today