নির্বাচনী ময়দানে নতুন চমক জাতীয় পার্টির, এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত

নির্বাচনী ময়দানে নতুন চমক জাতীয় পার্টির, এককভাবে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ময়দানে নতুন একটি চমকপ্রদ ঘোষণা এসেছে। জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন অংশ এককভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

দলটি ৩০০টি আসনেই প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি শুরু করেছে বলে জানা গেছে। এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বৃত্তে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা অনেকের কাছে ‘চমকের’ মতোই মনে হচ্ছে।

জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যানসহ তিনজন প্রেসিডিয়াম সদস্য রোববার (৩০ নভেম্বর) রাতে এই সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করেন।

তারা জানান, চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই পথে যাওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে রংপুর বিভাগের ৩৩টি আসনে জনপ্রিয় ও গ্রহণযোগ্য নেতাদের বাছাই করে প্রার্থী চূড়ান্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও সিলেট বিভাগেও দল থেকে শক্তিশালী প্রার্থীদের মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও রংপুর মহানগর সাধারণ সম্পাদক এস এম ইয়াসির বলেন, “জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এটা সত্য। সবকটি আসনে প্রার্থী চূড়ান্ত করাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দিয়েছেন শীর্ষ নেতারা। এতে চমক আছে, কারণ আমরা সবাই জানি যে জোটের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছিল। তবে দলের স্বার্থ এবং জনগণের প্রত্যাশা বিবেচনায় একক পথই সঠিক।”

তিনি আরও জানান, গত তিন দিন ধরে ঢাকায় অবস্থান করছেন রংপুরের শীর্ষ নেতারা এবং এরই মধ্যে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেখতে গিয়েছেন জি এম কাদেরের নেতৃত্বাধীন দলের নেতারা।

এদিকে, জাতীয় পার্টির অন্যান্য অংশের নেতৃত্বে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি ভিন্ন। চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ ও জাতীয় পার্টি (জেপি)-এর চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন দুই ধারা নির্বাচনী শক্তি বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি নতুন রাজনৈতিক জোট গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। এই জোটের মুখপাত্র নির্ধারণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জাতীয় পার্টির এই ভাগাভাগি নির্বাচনী ময়দানে তৃতীয় বিকল্প হিসেবে নতুন গতিশীলতা যোগ করবে, যা বিএনপি ও অন্যান্য দলের প্রতিযোগিতা বাড়িয়ে তুলতে পারে।

জাতীয় পার্টির এই একক অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক বৃত্তে মিশ্র প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে। অনেকে এটিকে দলের স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ জোটের সম্ভাবনা হারিয়ে যাওয়ায় হতাশ। নির্বাচন কমিশনের প্রবাসী ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলাকালীন এই ঘোষণা নির্বাচনী পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।

দলটির নেতারা জানিয়েছেন, জনগণের সমর্থন এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে তারা পুরোদমে কাজ করে যাবেন।

Visited 22 times, 1 visit(s) today