মক গণভোটে প্রশ্ন না বুঝেই “হ্যা” ভোট দিলেন ভোটাররাঃ ৫১০ ভোটার নিয়েই চরম অব্যাবস্থাপনা

মক গণভোটে প্রশ্ন না বুঝেই “হ্যা” ভোট দিলেন ভোটাররাঃ ৫১০ ভোটার নিয়েই চরম অব্যাবস্থাপনা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে শেরেবাংলা নগর সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে গতকাল শনিবার অনুষ্ঠিত ‘মক ভোটিং’-এ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সম্ভাব্য গণভোটের মহড়া দিতে গিয়ে বেহাল দশা প্রকাশ পেয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রস্তুতির। মাত্র ৫১০ জন ভোটার নিয়ে আয়োজিত এই ট্রায়াল ভোটে শুরু থেকেই চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। ফলে ভোট গ্রহণ শুরুর মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় কার্যক্রম বন্ধ করে দিতে বাধ্য হন সরেজমিনে উপস্থিত নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।

সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কয়েক মিনিট বিলম্বে শুরু হয়। কিন্তু শুরুতেই লাইন বিশৃঙ্খলা, ভোটকক্ষে অতিরিক্ত লোকের ভিড় এবং কর্মকর্তাদের সমন্বয়হীনতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরিস্থিতি দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন কমিশনার সানাউল্লাহ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে ভোটার ছাড়া সবাইকে কেন্দ্র ত্যাগের নির্দেশ দেন এবং পুরুষ-নারী কক্ষ থেকে ২০ জন করে ভোটার বাছাই করে পুনরায় ভোট গ্রহণ শুরু করান।

কমিশনার সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, “শুধু এখানে নাটক করার জন্য এ কাজটা নয়, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ রকম হযবরল ও অরাজকতা থাকলে এ কাজ করে লাভ নেই।” তিনি জানান, একজন ভোটারের লাইনে দাঁড়ানো থেকে ভোট দেওয়া পর্যন্ত কত মিনিট লাগছে কি না, তা যাচাই করাই এই মক ভোটিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। এই সময়ের ওপর ভিত্তি করে ভোটকক্ষ, গোপন কক্ষ ও কেন্দ্রের সংখ্যা নির্ধারণ করা হবে।

কিন্তু মাত্র ৫১০ জন ভোটার নিয়েই যদি এমন বিশৃঙ্খলা হয়, তাহলে আসন্ন নির্বাচনে প্রায় ১০ কোটি ভোটার কীভাবে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করবে ইসি—এমন প্রশ্নই এখন সবার মুখে মুখে।

ভোটারদের দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হয়েছে—একটি সাদা-কালো সংসদ নির্বাচনের প্রতীকযুক্ত ব্যালট, অন্যটি গোলাপি রঙের গণভোটের চারটি প্রশ্নসংবলিত ব্যালট। গণভোটের ব্যালটে ‘হ্যাঁ’ ও ‘না’ অপশনে টিক ও ক্রস চিহ্ন দেওয়ার ব্যবস্থা ছিল।

ভোট দিয়ে বের হওয়া অনেকেই অভিযোগ করেছেন, গণভোটের প্রশ্নগুলো সম্পর্কে আগে থেকে কোনো ধারণা দেওয়া হয়নি। ফলে অনেকে না বুঝেই ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিয়েছেন। একাধিক ভোটার বলেছেন, “আগে থেকে ব্রিফ করা হলে বুঝে ভোট দিতে পারতাম।”

মক ভোটিংয়ের এই বেহাল দশা দেখে নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, মাত্র ৫১০ জনের একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশেও যদি এমন অব্যবস্থাপনা হয়, তাহলে দেশজুড়ে লাখ লাখ কেন্দ্রে কোটি কোটি ভোটার নিয়ে কী ঘটবে তা সহজেই অনুমেয়।আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজনের প্রস্তুতি হিসেবে এই মক ভোটিংকে দেখা হলেও, শনিবারের অভিজ্ঞতা নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন এঁকে দিয়েছে।

 

Visited 11 times, 1 visit(s) today