দক্ষিণ আমেরিকার ফুটবলের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা কোপা লিবার্তাদোরেসের ফাইনালে এবার মুখোমুখি হচ্ছে ব্রাজিলের দুই শক্তিশালী দল পালমেইরাস ও ফ্ল্যামেঙ্গো।
লিমার মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত হবে বহু প্রতীক্ষিত এ ফাইনাল, যা হবে গত নয় বছরের মধ্যে অষ্টম সর্ব-ব্রাজিলীয় শেষ লড়াই। ম্যাচটি শুরু হবে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় (২১:০০ জিএমটি)। ফ্ল্যামেঙ্গো বর্তমানে ব্রাজিলের সিরি–এ লিগে পালমেইরাসের চেয়ে পাঁচ পয়েন্ট এগিয়ে, যদিও দু’দলেরই মৌসুমে এখনও দুটি ম্যাচ বাকি।
গত মৌসুমে বোটাফোগো লিবার্তাদোরেস ও সিরি–এ উভয় শিরোপাই জিতেছিল। এ মৌসুমে শিরোপা লড়াই অন্যদিকে গেলেও লিবার্তাদোরেসের ফাইনাল দখলে ব্রাজিলের আধিপত্য অব্যাহত রয়েছে।
পালমেইরাস সেমিফাইনালের প্রথম লেগে ৩-০ গোলের ঘাটতি পুষিয়ে দ্বিতীয় লেগে ইকুয়েডরের এলডিইউকে ৪-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছেছে। রাফায়েল ভেইগা ওই ম্যাচে জোড়া গোল করেন। এর আগে তারা গ্রুপপর্বে ছয় ম্যাচেই জয় পায় এবং কোয়ার্টার ফাইনালে রিভার প্লেটকে বিদায় করে।
অন্যদিকে ফ্ল্যামেঙ্গো সেমিফাইনালের দ্বিতীয় লেগে আর্জেন্টিনার রেসিং ক্লাবের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে এবং প্রথম লেগের ১-০ ব্যবধান ধরে রেখে ফাইনাল নিশ্চিত করে, যদিও ম্যাচের বেশিরভাগ সময় তারা ১০ জন নিয়ে খেলতে বাধ্য হয়। গ্রুপপর্বে ধীরগতির শুরু করা ফ্ল্যামেঙ্গো কোয়ার্টার ফাইনালে এস্তুদিয়ান্তেসকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করে।
লিবার্তাদোরেসে পালমেইরাসের রয়েছে তিনটি শিরোপা—১৯৯৯, ২০২০ ও ২০২১ সালে। ফ্ল্যামেঙ্গোর অর্জনও তিনটি—১৯৮১, ২০১৯ ও ২০২২ সালে। ফলে এবার যে-ই জিতুক, চতুর্থ শিরোপার মালিক হবে। দুই দলের সাম্প্রতিক মুখোমুখি লড়াইয়ে আধিপত্য ফ্ল্যামেঙ্গোর; তারা অক্টোবর মাসে সিরি–এ ম্যাচে পালমেইরাসকে ৩-২ গোলে হারায় এবং মৌসুমের শুরুতে ২-০ গোলে জয় পায়।
ফাইনালের আগে কিছু অস্থিরতার ঘটনাও ঘটেছে। রিও দে জেনেইরোর বিমানবন্দরের কাছে পুলিশ ও ফ্ল্যামেঙ্গো সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে, যেখানে ভিড়ের মাঝে কয়েকজন সমর্থক দলীয় বাসের ছাদ দিয়ে প্রবেশ করে। ঘটনার ভিডিও সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে, তবে ক্লাব বা কর্তৃপক্ষ কেউই আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি।
এ হবে দুই দলের ৪৮তম মুখোমুখি লড়াই। ফ্ল্যামেঙ্গো জিতেছে ১৬ বার, পালমেইরাস ১৫ বার। পালমেইরাসের দলে ফিগুয়েরেদো দীর্ঘমেয়াদি হাঁটুর ইনজুরিতে ছিটকে আছেন। লুকাস ইভানজেলিস্তা ও পাউলিনহোও ইনজুরির কারণে অনুপস্থিত।
গোলরক্ষক ওয়েভারটনের খেলা এখনও অনিশ্চিত। ফ্ল্যামেঙ্গো’র গনজালো প্লাতা সেমিফাইনালের লাল কার্ডের কারণে ফাইনালে নিষিদ্ধ, আর পেদ্রো চোটের কারণে খেলতে পারবেন না। হেনরিকো সম্প্রতি বদলি হিসেবে নেমে গোল করেছেন এবং শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার দাবি জোরদার করছেন।
ফুটবল বিশ্বে দক্ষিণ আমেরিকার মর্যাদা পুনরায় প্রমাণের মঞ্চে এবার দুই ব্রাজিলীয় দৈত্য—কেউই পিছিয়ে থাকতে চায় না। লিমার রাত সাক্ষী হবে নতুন বা পুনরুদ্ধার হওয়া মহাদেশীয় শিরোপার।
