মন্ত্রণালয়ের অর্থে বিশেষ বরাদ্দ: তিন আসনে নির্বাচনী সুবিধা দিতে বন্দোবস্তের অভিযোগ উপদেষ্টা আসিফের বিরুদ্ধে

মন্ত্রণালয়ের অর্থে বিশেষ বরাদ্দ: তিন আসনে নির্বাচনী সুবিধা দিতে বন্দোবস্তের অভিযোগ উপদেষ্টা আসিফের বিরুদ্ধে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকার ২৭৪টি ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের দেওয়া বিশেষ বরাদ্দকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে স্বজনপ্রীতি, অস্বচ্ছতা ও নির্বাচনী উদ্দেশ্য নিয়ে।

কিংস পার্টি খ্যাত একটি বিশেষ দলকে সুবিধা দিতেই উপদেষ্টা আসিফ এটা করেছেন এমন অভিযোগ এসেছে প্রকাশ্যে।

মোট বরাদ্দপ্রাপ্ত ২৭৪টির মধ্যে মাত্র একটি ছাড়া বাকি ২৭৩টি প্রতিষ্ঠানই পড়েছে ঢাকার মাত্র তিনটি সংসদীয় আসনে ঢাকা-৯, ঢাকা-১০ ও ঢাকা-১১। ঢাকায় মোট ২০টি সংসদীয় আসন থাকলেও বাকি ১৭টি আসনে কোনও বরাদ্দ দেননি উপদেষ্টা আসিফ।

এই তিন আসনে বরাদ্দ যাওয়া নিয়ে প্রশ্নের মুখে পড়েছেন ছাত্র উপদেষ্টা ও স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কারণ, বরাদ্দের সবচেয়ে বড় অংশ পেয়েছে ঢাকা-১০ আসন, যেখানে বরাদ্দ হয়েছে মোট ৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা। পুরো বরাদ্দের অর্ধেকেরও বেশি।

আর ঠিক এক সপ্তাহ আগেই এই আসনের ভোটার হয়েছেন আসিফ মাহমুদ, এবং তিনি এখান থেকে নির্বাচন করতে পারেন। এমন গুঞ্জন রাজনৈতিক মহলেই নয়, প্রশাসনের ভেতরেও ঘুরছে।

জানা গেছে, ২৭৪টি প্রকল্পের মধ্যে ১৪৫টি প্রতিষ্ঠানই ঢাকা-১০ এলাকায়। বাকিগুলো ঢাকা-৯ ও ঢাকা-১১ যেখানে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই শীর্ষ নেতা।

অভিযোগ ওঠেছে নির্বাচনের আগে ছাত্র উপদেষ্টার ঘনিষ্ঠদের নির্বাচনী এলাকাতেই কি সরকারি বরাদ্দ ঢেলে দেওয়া হয়েছে। ভোটের মাঠ তৈরির জন্য অঘোষিত সরকারি সুবিধা দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রাজনৈতিক দলগুলোর।

উপদেষ্টা আসিফ অবশ্য দাবি করেছেন, কাদের সুপারিশে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে জানি না। কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলোর নেতারা বলছেন এটি স্পষ্ট স্বজনপ্রীতির উদাহরণ, যা নির্বাচনের আগে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে সুবিধা দিতে করা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, তপশিল ঘোষণার পর এ ধরনের বরাদ্দ দেওয়া যায় না। যদিও তপশিল ঘোষণার আগে এই বরাদ্দ আইনগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ নয়, কিন্তু নৈতিকতা ও ন্যায্যতা—উভয় ক্ষেত্রেই বিতর্ক তীব্র হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের সদস্য অধ্যাপক মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনের আগে নির্দিষ্ট কয়েকটি আসনে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া নিঃসন্দেহে দৃষ্টিকটু। এটি নির্বাচনী প্রভাব খাটানোর প্রচেষ্টা হিসেবে দেখা যায়।

এর আগে ৫ই অক্টোবর ঢাকার ১৪টি প্রতিষ্ঠানে দেওয়া ৪২ লাখ টাকার বরাদ্দ ছিল শহরের বিভিন্ন এলাকায় হওয়ায় তেমন প্রশ্ন ওঠেনি। কিন্তু এবার একচেটিয়া ভাবে তিনটি নির্বাচনী এলাকায় বরাদ্দ যাওয়ায় স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আরও বিশ্বাসযোগ্য হয়ে উঠেছে।

অনেকে অভিযোগ তুলেছেন ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক সুবিধা নিতে সরকারি তহবিল ব্যবহার করছেন। তাদের দাবি এটি ক্ষমতার অপব্যবহার ও সরকারি বরাদ্দের রাজনৈতিকীকরণ এবং আসন্ন নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের সুস্পষ্ট চেষ্টা।

আগামী মাসেই ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তপশিল ঘোষিত হবে। এর মধ্যেই উপদেষ্টার পদ থেকে পদত্যাগ করে আসিফ মাহমুদ ঢাকার একটি আসনে নির্বাচন করবেন বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে বরাদ্দ বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞ তারিকুল ইসলাম বলেন, যৌক্তিক সংস্কার চলমান থাকার সময়ে এ ধরনের বিশেষ বরাদ্দ শুধু বিতর্কই তৈরি করে না, ভবিষ্যতের নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে

Visited 16 times, 1 visit(s) today