চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের ‘ব্রাশফায়ার নির্দেশে’ উদ্বেগ প্রকাশ আসকের

চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের ‘ব্রাশফায়ার নির্দেশে’ উদ্বেগ প্রকাশ আসকের
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক,

আওয়ামী লীগের ঘোষিত ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সারাদেশে যখন উত্তেজনা বিরাজ করছে, ঠিক তখন চট্টগ্রামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বাড়তি তৎপরতা এবং পুলিশ কমিশনারের ‘ব্রাশফায়ারের নির্দেশ’ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কার্যক্রম স্থগিত থাকা আওয়ামী লীগের কর্মসূচি ঘিরে চট্টগ্রাম নগরীতে বুধবার সকাল থেকে কড়াকড়ি নিরাপত্তা জারি করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। নগরের মোড়ে মোড়ে চলছে তল্লাশি, টহলও বেড়েছে কয়েকগুণ। পথচারীদেরও জিজ্ঞাসাবাদের মুখে পড়তে হচ্ছে। এ সময় কনস্টেবল পর্যায়ের সদস্যদের হাতেও দেখা গেছে সাবমেশিন গান (এসএমজি)।

সিএমপি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাধারণত নায়েক ও এএসআই (সশস্ত্র) পদবির সদস্যরাই এ অস্ত্র বহন করে থাকেন। তবে মঙ্গলবার দুপুরে এক বেতার বার্তায় টহল ও থানা পুলিশকে ‘অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দেখামাত্র এসএমজি দিয়ে ব্রাশফায়ার’ করার নির্দেশ দেন সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ।

কমিশনারের এমন নির্দেশে গভীর উদ্বেগ জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটি এক বিবৃতিতে বলেছে, এ ধরনের নির্দেশনা সরাসরি বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে উৎসাহিত করে— যা সংবিধান, আইনের শাসন ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের পরিপন্থি।

আসকের জ্যেষ্ঠ সমন্বয়কারী আবু আহমেদ ফয়জুল কবির স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, “বাংলাদেশ সংবিধানের ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে নাগরিকের জীবনের অধিকার এবং আইনের আশ্রয় পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে। সন্দেহভাজন অপরাধীকেও আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া হত্যা বা গুলি চালানোর নির্দেশ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

সংস্থাটি আরও বলেছে, “এ ধরনের বক্তব্যের বিষয়ে সরকারকে অবিলম্বে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল সদস্যদের মানবাধিকার ও সংবিধানসম্মত দায়িত্ব পালন সম্পর্কে যথাযথ বার্তা দিতে হবে। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বা গুলি চালানোর নির্দেশ রাষ্ট্রের নীতি ও আইনি কাঠামোর সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।”

আসকের মতে, “চট্টগ্রাম পুলিশ কমিশনারের এ বক্তব্য দায়িত্বশীল প্রশাসনিক আচরণের পরিপন্থি এবং ন্যায়বিচার ও মানবাধিকারের মৌলিক নীতিকে চ্যালেঞ্জ করে। এই নির্দেশ অবিলম্বে প্রত্যাহার করা না হলে ভবিষ্যতে প্রাণহানি ও বিচারবহির্ভূত ঘটনার ঝুঁকি বাড়বে, যা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও আইনের শাসনের জন্য অপ্রত্যাশিত।”

এ বিষয়ে সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ পরে এক ব্যাখ্যায় বলেন, “দেখামাত্র ব্রাশফায়ারের নির্দেশ সাধারণ জনগণের জন্য নয়। যার হাতে অস্ত্র নেই, তার ওপর তো এসএমজি ব্যবহার করব না। এটি সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের জন্য দেওয়া হয়েছে।”

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের জনসংযোগ কর্মকর্তা আমিনুর রশিদ বলেন, “পুলিশ সদস্যরা যেসব অস্ত্র বহনের অনুমোদনপ্রাপ্ত, সেগুলিই ব্যবহার করছেন— যেমন এসএমজি, পিস্তল, শটগান বা কাটা রাইফেল। গণহারে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবহারের কোনো নির্দেশ নেই।”

তবে আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকদের মতে, পুলিশের সর্বনিম্ন পর্যায়ের সদস্যদের হাতে ভারী অস্ত্র দেখা যাওয়া এবং কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তার এমন নির্দেশ জনমনে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে— যা প্রশাসনের আচরণ ও দায়বদ্ধতার প্রশ্নও উত্থাপন করছে।

Visited 20 times, 1 visit(s) today