নিজস্ব প্রতিবেদক
কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকা আওয়ামী লীগের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন মেস ও হোটেলে রাতভর তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। এ সময় অন্তত ৪৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে— যাদের বেশিরভাগের বাড়ি গোপালগঞ্জ জেলায়।
পুলিশের দাবি, নাশকতা পরিকল্পনার অভিযোগে সন্দেহভাজন হিসেবে এসব ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, গোপালগঞ্জের বাসিন্দা হলেই পুলিশ গ্রেপ্তার করছে— এমন অভিযোগে মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
এর আগে গোপালগঞ্জের বাসিন্দাদের আলাদাভাবে চিহিৃত করার কাজটি শুরু করেন ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাদ আলী।
গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে বলেন, রাজধানীতে বাসে আগুন দেওয়ার সময় বিশেষ একটি জেলার একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার ভোর পর্যন্ত ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) ও অন্যান্য ইউনিটের সদস্যরা বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউ, ফকিরাপুল, কাকরাইল, এলিফ্যান্ট রোড, কলাবাগানসহ বিভিন্ন এলাকার আবাসিক হোটেল ও মেসে অভিযান চালায়।
তল্লাশির সময় অতিথিদের জাতীয় পরিচয়পত্র, পেশা ও ঢাকায় আসার কারণ জানতে চাওয়া হয়। কারও মোবাইল ফোনে আওয়ামী লীগ বা এর সহযোগী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগের প্রমাণ পেলে সঙ্গে সঙ্গে আটক করা হয় বলে জানান কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী।
রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম বলেন, “সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই অভিযান চলছে। গতরাতে কলাবাগানের একটি মেস থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যারা নাশকতার জন্য ঢাকায় জড়ো হয়েছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাদের নাম পুলিশের অপরাধ ডাটাবেজ (সিডিএমএস)-এ যাচাই করা হয়।
“কলাবাগান থেকে গ্রেপ্তার ১১ জনের মধ্যে পাঁচজন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা— তাদের বিরুদ্ধে আগের মামলা পাওয়া গেছে,” বলেন ডিসি মাসুদ।
তবে মানবাধিকারকর্মীরা বলছেন, কোনো ব্যক্তির জেলা পরিচয়ের ভিত্তিতে সন্দেহ করা এবং গ্রেপ্তার করা সাংবিধানিক অধিকারের পরিপন্থী। এমন অভিযানে নিরীহ নাগরিকরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের জনসংযোগ বিভাগ এক বার্তায় জানিয়েছে, “রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের আরও ৪৪ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি।”
শেখ হাসিনার মামলার রায় ঘনিয়ে আসায় আওয়ামী লীগ ১০ থেকে ১৩ই নভেম্বর পর্যন্ত বিক্ষোভের কর্মসূচি দিয়েছে। দলের ১৩ই নভেম্বরের ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এই অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি যাই হোক, কোনো নাগরিকের পরিচয় বা জেলা দেখে তাকে গ্রেপ্তার করা আইনের শাসনের পরিপন্থী এবং তা ভয় ও অনিশ্চয়তার পরিবেশ সৃষ্টি করছে রাজধানীতে।
