ক্রিপ্টো মার্কেট ক্র্যাশে ইউক্রেনীয় ট্রেডারের গুলিবিদ্ধ মরদেহ মিললো ল্যাম্বরগিনিতে

ক্রিপ্টো মার্কেট ক্র্যাশে ইউক্রেনীয় ট্রেডারের গুলিবিদ্ধ মরদেহ মিললো ল্যাম্বরগিনিতে
শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক

ক্রিপ্টোকারেন্সি মার্কেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ধসের মধ্যে একটি ট্র্যাজেডি ঘটেছে। ইউক্রেনের প্রখ্যাত ক্রিপ্টো ট্রেডার এবং ইনফ্লুয়েন্সার কনস্টানটিন গ্যালিচ ওরফে কোস্টিয়া কুডোকে (৩২) তার ল্যাম্বরগিনি গাড়ির ভেতরে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় মৃত পাওয়া গেছে। পুলিশ একে সম্ভাব্য আত্মহত্যা বলে মনে করছে। ধারণা করা হচ্ছে সাম্প্রতিক ক্রিপ্টো ক্র্যাশের ঘটনায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়ে থাকতে পারেন।

এই ক্রিপ্টো ক্র্যাশের ঘটনায় গ্যালিচের ব্যক্তিগত ও বিনিয়োগকারীদের কমপক্ষে ৩০ মিলিয়ন ডলারের লোকসান হয়েছে বলে জানা গেছে।

গত ১১ই অক্টোবর সকালে কিয়েভের ওবোলোনস্কয়ি জেলায় গ্যালিচের ল্যাম্বরগিনি উরুস গাড়ির ভিতরে তার দেহ উদ্ধার করা হয়। মাথায় গুলির আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং গাড়ির পাশে তার নিবন্ধিত অস্ত্রটি পাওয়া গেছে।

কিয়েভ পুলিশের টেলিগ্রাম চ্যানেলে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “ঘটনাটি সম্ভাব্য আত্মহত্যা হিসেবে তদন্ত চলছে, তবে হত্যার সম্ভাবনাও বাদ দেওয়া যাচ্ছে না।”

টেলিগ্রাম চ্যানেলে বলা হয়েছে, “কনস্টানটিন কুডো ট্র্যাজিক্যালি মারা গেছেন। কারণগুলো তদন্তাধীন। আরও খবর আপডেট করব।

গ্যালিচ ছিলেন ক্রিপ্টো কমিউনিটির একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তিনি ক্রিপটোলজি কী ট্রেডিং একাডেমির সহ-প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও ছিলেন, যার ইনস্টাগ্রামে ১ লাখের বেশি এবং টেলিগ্রামে ৫৫ হাজারের বেশি ফলোয়ার ছিল। ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন সময়ে তিনি সামরিক সহায়তা এবং মানবিকতার জন্য লক্ষ লক্ষ ডলার দান করেছিলেন। তার বিলাসবহুল জীবনযাপনের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন—তার গাড়ির মধ্যে ছিল ২০২০ মডেলের ল্যাম্বরগিনি উরুস, ২০২৩ ফেরারি ২৯৬ জিটিবি এবং মার্সিডিজ-বেঞ্জ।

কিন্তু সাম্প্রতিক ক্র্যাশে তার ব্যক্তিগত সম্পদ এবং বিনিয়োগকারীদের অর্থের বিপুল ক্ষতি হয়েছে বলে বন্ধু-বান্ধবরা জানিয়েছেন।

কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তিনি আর্থিক চাপ এবং মানসিক অবসাদের কথা উল্লেখ করে একটি বিদায়ী বার্তা পাঠিয়েছিলেন।

এই ট্র্যাজেডির পটভূমিতে ঘটেছে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহের ঐতিহাসিক ক্রিপ্টো ক্র্যাশ। ১০ই অক্টোবর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চীনের আমদানির উপর ১০০% ট্যারিফের ঘোষণা এবং গুরুত্বপূর্ণ সফটওয়্যার রপ্তানির উপর নিয়ন্ত্রণের হুমকির পর মার্কেটে প্যানিক সেলিং শুরু হয়। মাত্র ৬ ঘণ্টার মধ্যে ক্রিপ্টো মার্কেট থেকে ১৯ বিলিয়ন ডলারের লিকুইডেশন ঘটে, যা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় একদিনের ক্ষতি। বিটকয়েনের দাম ১২৬,০০০ ডলার থেকে ১০৫,০০০ ডলারের নিচে নেমে যায় (প্রায় ১৪% কম), ইথেরিয়াম ১২% নেমে ৩,৮০০ ডলারে পৌঁছায় এবং অল্টকয়েনগুলো ১৫-৪০% পর্যন্ত কমে।

মোট ক্রিপ্টো মার্কেট ক্যাপিটালাইজেশন ৫০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি হারায়। এতে ১.৬ মিলিয়ন ট্রেডারের অ্যাকাউন্ট লিকুইডেট হয়েছে, যা ক্রিপ্টো ইন্ডাস্ট্রির মানসিক চাপ এবং ঝুঁকির একটি করুণ স্মারক।

ক্রিপ্টো কমিউনিটিতে গ্যালিচের মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমেছে।

একজন ট্রেডার বলেছেন, “ইউক্রেনের প্রথম ক্রিপ্টো ইনভেস্টর এবং বিশ্বাসী, খুব তাড়াতাড়ি চলে গেলেন।”

এই ঘটনা ক্রিপ্টো ট্রেডিংয়ের মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যু এবং লেভারেজড ট্রেডিংয়ের বিপদকে নতুনভাবে তুলে ধরেছে।

কিয়েভ পুলিশ এবং আন্তর্জাতিক কর্মকর্তারা তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন। মার্কেট এখন কিছুটা স্থিতিশীল হলেও, বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, এমন আরেকটি ক্র্যাশের সম্ভাবনা এখনও রয়েছে।

Visited 6 times, 1 visit(s) today