সূচক তিন মাসের নিম্ন অবস্থানে, বড় দরপতনে বাজারে তীব্র আতঙ্ক

সূচক তিন মাসের নিম্ন অবস্থানে, বড় দরপতনে বাজারে তীব্র আতঙ্ক
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) সপ্তাহের প্রথম কার্যদিবস রোববার (১২ই অক্টোবর) বড় দরপতন হয়েছে। এদিন লেনদেনে অংশ নেওয়া সিকিউরিটিজগুলোর মধ্যে যেগুলোর দাম বেড়েছে, তার তুলনায় সাত গুণ বেশি সিকিউরিটিজের দাম কমেছে। ফলে একদিনেই সূচকগুলো প্রায় ২ শতাংশের কাছাকাছি নিচে নেমে এসেছে। প্রধান সূচক ডিএসইএক্স তিন মাস আগের অবস্থানে ফিরে গেছে। তবে সামান্য বেড়েছে লেনদেনের পরিমাণ।

বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ডিএসইতে আজ মোট ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে মাত্র ৪৭টির, কমেছে ৩১১টির, আর অপরিবর্তিত ছিল ৩৪টির দর। দরপতন হওয়া সিকিউরিটিজের মধ্যে ‘এ’ ক্যাটাগরির ১৭৫টি, ‘বি’ ক্যাটাগরির ৭০টি এবং ‘জেড’ ক্যাটাগরির ৬৬টি কোম্পানি রয়েছে।

বাজারে ব্যাপক পতনের ফলে ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ৮১ পয়েন্ট বা ১.৫৪ শতাংশ কমে ৫ হাজার ২০২ পয়েন্টে নেমে এসেছে। সর্বশেষ সূচকটি এর চেয়ে নিচে ছিল ২০ জুন, যখন এটি ছিল ৫ হাজার ১৯৪ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই শরিয়াহ সূচক (ডিএসইএস) ১৯ পয়েন্ট বা ১.৭২ শতাংশ কমে ১ হাজার ১১৫ পয়েন্টে এবং ডিএসই-৩০ সূচক ৩৫ পয়েন্ট বা ১.৭০ শতাংশ কমে ২ হাজার ৩৩ পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে।

পতনের পেছনে ব্যাংক একীভূতকরণ ইস্যু

মিডওয়ে সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. আশেকুর রহমান বলেন, ‘পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ সিদ্ধান্তই এখনকার বড় কারেকশনের মূল কারণ। সরকার ওই পাঁচ ব্যাংকে ২০ হাজার কোটি টাকার মূলধন দেবে, যা মুদ্রাস্ফীতির চাপ আরও বাড়াতে পারে। এর প্রভাব পুঁজিবাজারেও পড়ছে। পাশাপাশি ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগকারীদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় অনেকেই আতঙ্কে শেয়ার বিক্রি করছেন। তাছাড়া জুন ক্লোজিং শেষে অনেক কোম্পানি আশানুরূপ মুনাফা দেখাতে পারেনি, ফলে সেখানেও বিক্রির চাপ বেড়েছে।’

এদিন ডিএসইতে মোট ৫৪২ কোটি ৫৫ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা আগের কার্যদিবসের ৫৩০ কোটি ১৮ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় ১২ কোটি ৩৭ লাখ টাকা বেশি।

লেনদেনের শীর্ষে ছিল সিভিও পেট্রোকেমিক্যাল রিফাইনারি পিএলসি, যার শেয়ার লেনদেন হয়েছে ২৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকার। এর আগের কার্যদিবসে ২১ কোটি ৯০ লাখ টাকার লেনদেনে শীর্ষে ছিল ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং সিস্টেমস লিমিটেড।

চট্টগ্রাম বাজারেও পতন

দেশের দ্বিতীয় পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই)ও একই ধারা দেখা গেছে। সেখানে অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরপতনে সব সূচক নিচে নেমেছে এবং সার্বিক লেনদেন কমেছে।

সিএসইর সার্বিক সূচক সিএসপিআই ১৮৫ পয়েন্ট কমে ১৪ হাজার ৭৬২ পয়েন্টে নেমেছে। সিএসসিএক্স সূচক ১১২ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৭৭ পয়েন্টে। এদিন সিএসইতে ১৯৪টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট লেনদেন হয়, যার মধ্যে ৩২টির দর বেড়েছে, ১৪৭টির কমেছে এবং ১৫টির অপরিবর্তিত ছিল। মোট লেনদেন হয়েছে ১০ কোটি ৩৯ লাখ টাকার, যা আগের দিনের ২২ কোটি ৬১ লাখ টাকার তুলনায় প্রায় অর্ধেক।

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নেতিবাচক মনোভাব

পুঁজিবাজারে এই বড় পতনের কারণ হিসেবে একই ইস্যুর কথা তুলে ধরেন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি সাইফুলও। তিনি বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়ে পরিষ্কার না করে পাঁচ ব্যাংকের একীভূতকরণ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় বাজারে নেতিবাচক বার্তা গেছে। এতে বাজারজুড়ে পতনের চাপ তৈরি হয়েছে। আমরা ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়ে ডিবিএকে মার্জার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ করেছি। বিনিয়োগকারীদের স্বার্থে কাজ চালিয়ে যাব, এবং আশা করছি বাজার শিগগিরই নিজস্ব গতিতে ফিরে আসবে।’

Visited 14 times, 1 visit(s) today