নরসিংদীতে হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়: বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল মজিদ হুমায়ূনের দাফন সম্পন্ন

নরসিংদীতে হাজারো মানুষের অশ্রুসিক্ত বিদায়: বীর মুক্তিযোদ্ধা নূরুল মজিদ হুমায়ূনের দাফন সম্পন্ন
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

নরসিংদী/ঢাকা, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫: বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে থাকাকালীন চিকিৎসা অবহেলায় মৃত্যুবরণ করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক শিল্পমন্ত্রী অ্যাডভোকেট নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন। সোমবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) তাঁর ইন্তেকাল হলে নরসিংদীতে মঙ্গলবার জানাজার জন্য হাজারো মানুষের সমাগম ঘটে। প্রশাসনের পদে পদে বাধা সত্ত্বেও এলাকাবাসী অশ্রুসিক্ত চোখে বিদায় জানান এই স্বাধীনতা সংগ্রামী নেতাকে।

৭৫ বছর বয়সী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূন ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর গুলশান থেকে গ্রেপ্তার হন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নরসিংদীতে হত্যা, আক্রমণ ও ভাঙচুর মামলায় অভিযুক্ত হয়ে তাঁকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। গত ২৭ সেপ্টেম্বর শনিবার কারাগারে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঢামেক-এর মেডিসিন বিভাগে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি ঘটলে রোববার বিকেলে আইসিইউ-তে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার সকাল ৭-৮টার দিকে অকন্ট্রোলড বাউয়েল অ্যান্ড ব্ল্যাডারের জটিলতায় তাঁর মৃত্যু হয়।

মঙ্গলবার নরসিংদীর মনোহরদীতে জানাজার নামাজ আদায়ের জন্য হাজারো মানুষের ভিড় জমে। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, মুক্তিযোদ্ধা সংগঠনের সদস্য এবং সাধারণ নাগরিকরা অংশ নেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করা হয়, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে না। তবে স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েকটি চেকপয়েন্টে বাধা সৃষ্টি করা হয় যাতে বেশি সংখ্যক লোকের প্রবেশ হয় না। এলাকাবাসীরা বলছেন, “প্রশাসনের বাধা সত্ত্বেও আমরা এসেছি। তিনি আমাদের নেতা, মুক্তিযোদ্ধা। তাঁকে শ্রদ্ধা জানাতে হবে।”

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মৃত্যুর পর তাঁর হাসপাতালের বিছানায় হাতকড়া পরা ছবি ছড়িয়ে পড়েছে, যা ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এক্স (পূর্বের টুইটার) প্ল্যাটফর্মে ব্যবহারকারী শাহালাম সাজিব (@shahalamsajeeeb) লিখেছেন, “প্রতিহিংসার জেলহত্যা… কারাগারে রাজনৈতিক বন্দিদের চিকিৎসা বঞ্চিত রেখে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া; এটাই এখন ‘জেলহত্যার’ নতুন রূপ।”

অন্য এক ব্যবহারকারী সামি (@ZulkarnainSaer) ছবি শেয়ার করে বলেছেন, “মরহুম নূরুল মজিদের হাতে হাতকড়া… অমানবিকতা।”

এই ছবিগুলোতে দেখা যায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় এমনকি মৃত্যুর পরও তাঁর হাতে হাতকড়া পরা ছিল, যা মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে। নূরুল মজিদের স্ত্রী নাদিরা মাহমুদ এবং এক ছেলে-দুই মেয়ের সন্তান রয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে রাজনৈতিক বৃত্তান্তে শোকের ছায়া নেমেছে। আওয়ামী লীগের বর্ষীয়ান নেতা হিসেবে তাঁর অবদান স্মরণীয়। এই ঘটনা কারাগারে বন্দীদের চিকিৎসা অধিকার নিয়ে নতুন বিতর্কের সূত্রপাত করেছে।

Visited 7 times, 1 visit(s) today