বিশেষ প্রতিনিধি
ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার ফুলহরি গ্রামে একটি দুর্গা মন্দিরে ৬টি প্রতিমা ভাঙচুর এবং মন্দিরের ভেতরে মলমূত্র ত্যাগের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে পুলিশ মনজের আলী (৫০) নামে ব্যাক্তিকে আটক করেছে।
আটক ব্যক্তিকে মানসিক প্রতিবন্ধী বলে প্রচার চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২৩শে সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার ভোররাতের দিকে উপজেলার ফুলহরি গ্রামের হরিতলা সর্বজনীন পূজা মন্দিরে এ ঘটনা ঘটে।
ফুটেজে দেখা যায়, তিনি মন্দিরে প্রবেশ করে একে একে প্রতিমাগুলোর মাথা ভেঙে ফেলছেন এবং কিছু অংশ পানিতে ডুবাচ্ছেন। এছাড়া মন্দিরে মলমূত্র ত্যাগ করছেন।
এ ঘটনায় এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর্গাপূজার আনন্দ অনেকটা মলিন হতে চলছে।
মন্দির কমিটির সভাপতি বিকাশ কুমার বিশ্বাস জানান, “রাত ৪টা পর্যন্ত পাহারার লোকজন ছিলো। এরপরই মনজের আলী মন্দিরে প্রবেশ করে ৬টি প্রতিমার মাথা ভেঙে ফেলে। তিনি অসুর, কার্তিক, স্বরসতিসহ ৬টি বিগ্রহের মাথা ভেঙেছেন। সকাল ৯টার সময় আমরা এসে দেখতে পাই যে প্রতিমা ভাঙচুর করা হয়েছে।”
কমিটির সাধারণ সম্পাদক তাপস বিশ্বাস বলেন, ‘মনজের পূজা হয় হলে আমাদের এই মন্দিরে আসেন। এখানে খাওয়া-দাওয়া করেন। এখন এই ভাঙচুরের কারণ খতিয়ে দেখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।’
স্থানীয়দের কারো কারো দাবি, আটক মনজের আলী একজন মানসিক প্রতিবন্ধী।
শৈলকুপা থানার ওসি মাসুম খান জানান, সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে, তদন্তের পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায় উপজেলার অধিকাংশ পূজামণ্ডপ গুলো অনিরাপদ ও অরক্ষিত।
এ ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল ইসলাম, ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মঞ্জুর মোর্শেদ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবিএম খালিদ সিদ্দিকী।
