বিসিবির ক্ষমতা দখলের নোংরা লড়াই

বিসিবির ক্ষমতা দখলের নোংরা লড়াই
শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা, বিসিবি, বর্তমানে এক নতুন সংকটের মুখোমুখি। আগামী ৬ অক্টোবরের নির্বাচন ঘিরে চলছে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। এক পক্ষের অভিযোগ, বর্তমান সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল-কে পুনরায় নির্বাচিত করতে সরকার সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে, যা আইসিসির নিয়ম-নীতির পরিপন্থী।
এই নির্বাচনে প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বী হলো আমিনুল ইসলাম বুলবুল এবং তারকা ক্রিকেটার তামিম ইকবাল-এর নেতৃত্বাধীন সম্মিলিত পরিষদ। অভিযোগ উঠেছে, যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া প্রকাশ্যেই আমিনুলকে সমর্থন দিচ্ছেন। তার এই হস্তক্ষেপের কারণে প্রশ্ন উঠেছে, এটি কি ক্রিকেটের স্বাভাবিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে না?
________________________________________
অভিযোগের মূল কারণ
নির্বাচন ঘিরে যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
• নির্বাচন কমিশনে সরকারি আধিক্য: বিসিবির নির্বাচন পরিচালনা করছে যে কমিশন, তার বেশিরভাগ সদস্যই সরকারের বিভিন্ন উচ্চপদস্থ পদে কর্মরত। এর ফলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
• কাউন্সিলর মনোনয়নে প্রভাব: অভিযোগ করা হয়েছে যে, জেলা ও বিভাগীয় ক্রীড়া সংস্থাগুলোতে সরকারের পছন্দের লোকদের দিয়ে অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়েছে, যাতে তারা আমিনুলের পক্ষে ভোট দিতে পারেন। এমনও শোনা যাচ্ছে, বহু ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট নন, এমন ব্যক্তিও কাউন্সিলর হয়েছেন।
• আইনি পদক্ষেপের হুমকি: সম্মিলিত পরিষদের নেতা তামিম ইকবাল এই পরিস্থিতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, যদি সুষ্ঠু নির্বাচন না হয়, তবে তারা আইনি ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন। এমনকি প্রয়োজনে তারা আইসিসি-কেও বিষয়টি জানাবেন।
________________________________________
আইসিসির বিধিনিষেধ এবং বাংলাদেশের ঝুঁকি

আইসিসির সংবিধান অনুযায়ী, এর সদস্য দেশগুলোর ক্রিকেট বোর্ডে সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অতীতে সরকার হস্তক্ষেপের কারণে জিম্বাবুয়ে, শ্রীলঙ্কা, এবং নেপাল সাময়িক নিষেধাজ্ঞার শিকার হয়েছিল। বাংলাদেশের ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, যদি এই ধরনের হস্তক্ষেপ অব্যাহত থাকে, তবে আমাদের দেশের ক্রিকেটেও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা আসতে পারে।
পুরোনো সভাপতি ফারুক আহমেদকে সরিয়ে আমিনুলকে ক্ষমতায় বসানোর পর থেকেই এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তখন আমিনুল নিজেই বলেছিলেন যে তিনি দীর্ঘমেয়াদে থাকবেন না, কিন্তু এখন তিনি আবার নির্বাচন করছেন। এসব ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে যে বিসিবিতে ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য এক বিশেষ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা ক্রিকেটের চেয়ে নিজেদের রাজনৈতিক ও ব্যক্তিগত স্বার্থকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন শঙ্কিত। একটি সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে, নাকি ক্ষমতা দখলের এই নোংরা খেলায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ ঝুঁকির মুখে পড়বে—সেই উত্তর মিলবে ৬ অক্টোবরের পর।

Visited 11 times, 1 visit(s) today