হঠাৎ রপ্তানি খাতে ৯১ শতাংশ মাশুল বাড়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা, উৎপাদন খরচ বাড়বে শিল্পখাতে

হঠাৎ রপ্তানি খাতে ৯১ শতাংশ মাশুল বাড়ায় হতাশ ব্যবসায়ীরা, উৎপাদন খরচ বাড়বে শিল্পখাতে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

রপ্তানি পণ্যের কাঁচামাল আমদানি ও রপ্তানির ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম বন্দরে এবং বেসরকারি কন্টেইনার ডিপোতে (আইসিডি) মাশুল বেড়েছে প্রায় ৯১ শতাংশ। ব্যবসায়ীদের আপত্তি উপেক্ষা করে চলতি সেপ্টেম্বর মাস থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন মাশুল। এতে চোখে অন্ধকার দেখছেন ব্যবসায়ীরা।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ মাশুল বাড়িয়েছে ৪১ শতাংশ, আর আইসিডি মালিকরা বাড়িয়েছে ৫০ শতাংশ। এর ফলে ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন ব্যয় ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে।

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ মোহাম্মদ আরিফ জানান, বন্দর ও আইসিডির সেবার খরচ ইচ্ছামতো বাড়ানোয় তাদেরও জাহাজ ভাড়া বাড়াতে হবে। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসে আমদানি-রপ্তানির ৯৯% কন্টেইনার, ফলে এর প্রভাব পড়বে প্রায় সব শিল্পখাতে।

ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো বলছে, এভাবে খরচ বাড়তে থাকলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকতে পারবে না। ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস ফোরাম চট্টগ্রামের সভাপতি এস এম আবু তৈয়ব বলেন, ঘাটে ঘাটে অতিরিক্ত মাশুল দিতে হলে অনেকেই ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হবেন।

সিকম গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আমিরুল হক বলেন, ‘চট্টগ্রাম বন্দর গত অর্থবছরে প্রায় ২,৯১২ কোটি টাকা মুনাফা করেছে। এরপরও এতটা বাড়তি ট্যারিফ চাপানো অন্যায়।’

আগে ২০ ফুট কন্টেইনারে গড় মাশুল ছিল ১১,৮৪৯ টাকা, এখন তা বেড়ে ১৬,২৪৩ টাকা। প্রতি কন্টেইনার ওঠানো/নামানোর চার্জ ৫,২৯৪ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৮,২৯৬ টাকা। সাধারণ পণ্যে কেজিপ্রতি মাশুল গড়ে ১৪ পয়সা করে বেড়েছে। ২০ ফুট কন্টেইনারে প্যাকেজ চার্জ ৩,৭১৩ টাকা থেকে বেড়ে হয়েছে ৯,৯০০ টাকা। ৪০ ফুট কন্টেইনারে এই চার্জ বেড়ে হয়েছে ১৩,২০০ টাকা (বৃদ্ধি: ৪,৯৫০ টাকা)। ৪৫ ফুট কন্টেইনারের নতুন চার্জ ১৪,৯০০ টাকা (বৃদ্ধি: ৬,৬৫০ টাকা)। গ্রাউন্ড রেন্ট ২০ ফুট কন্টেইনারে ৩৫ টাকা বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হয়েছে। ৪০ ও ৪৫ ফুটের জন্য ৩০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব ওমর ফারুক জানান, ‘বর্তমানে যে মাশুল নির্ধারণ করা হয়েছে, তা ১৯৮৬ সালের পুরোনো হার থেকে সংশোধন করা হয়েছে এবং এখনো আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় কম।’

বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কন্টেইনার ডিপোর্টস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব রুহুল আমিন সিকদার বলেন, ‘টাকার অবমূল্যায়ন, সুদের হার, শ্রমিক মজুরি ও যন্ত্রপাতির খরচ বেড়ে যাওয়ায় মাশুল বাড়ানো হয়েছে।’

Visited 7 times, 1 visit(s) today