জাকসুতেও শিবিরের ভোট কারচুপি: শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত লাবিবকে বিজয়ী ঘোষণা

জাকসুতেও শিবিরের ভোট কারচুপি: শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত লাবিবকে বিজয়ী ঘোষণা
শেয়ার করুন

জাবি প্রতিনিধি

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) নির্বাচনে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ মনোনীত প্রার্থী আহসান লাবিবকে সমাজসেবা ও মানবসেবা উন্নয়ন সম্পাদক পদে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়েছে। যাকে শামীম মোল্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল।

আজ ১৩ই সেপ্টেম্বর, শনিবার রাতে জাকসু নির্বাচন কমিশন এ ফলাফল ঘোষণা করে।

এদিকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগে একাধিক শিক্ষক নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার কারণে ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রদল, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং শিক্ষকদের একাংশও।

মব সন্ত্রাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের ৩৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী ও জাবি ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছিল। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শামীমকে লাঠি দিয়ে আঘাত করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী আহসান লাবিব। এছাড়া ম্যানেজমেন্ট বিভাগের একই ব্যাচের শিক্ষার্থী আতিকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী সেই হত্যাকাণ্ডে হামলায় অংশ নেন।

ফুটেজ বিশ্লেষণে ছাত্রদলের পাঁচজনকেও শনাক্ত করা হয়— সাঈদ হোসেন ভুঁইয়া, রাজু আহমেদ, রাজন হাসান, হামিদুল্লাহ সালমান ও এমএন সোহাগ।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, জয় বাংলা ফটকের সামনে প্রথম দফায় শামীমকে গণপিটুনি দেওয়া হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা শাখায় নিয়ে যাওয়ার পর দ্বিতীয় দফা মারধর হয়। হত্যাকাণ্ডের পর ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’ আহসান লাবিবকে সমন্বয়ক পদ থেকে অব্যাহতি দেয়। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক এ কে এম রাশিদুল আলম বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। আমরা তদন্ত কমিটি গঠন করছি। তদন্তে যারা দোষী প্রমাণিত হবে, তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং রাষ্ট্রীয় আইনে বিচার হবে।”

নিহত শামীম সাভারের আশুলিয়ার কাঠগড়া এলাকার ইয়াজ উদ্দিন মোল্লার ছেলে।

Visited 16 times, 1 visit(s) today