নিজস্ব প্রতিবেদক
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ডেপুটি চিফ অরগানাইজার ডা. মাহমুদা মিতু ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম সমন্বয়ক এবং জাতীয় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশ করা ডা. মিতু তার পোস্টে ড. ইউনূসকে “সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নপুংসক” আখ্যা দিয়ে তার ব্যবসায়িক ও রাজনৈতিক কার্যক্রমের সমালোচনা করেছেন।
ডা. মিতু তার ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “বাংলাদেশের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নপূংশক ড. ইউনূস। মাথা নত করার ও একটা লেভেল থাকে !! তবে ব্যবসাটা ভালো বুঝছে পাগলায়। গ্রামীন ইউনিভার্সিটি পাশ করছে, হাস্পাতাল করা, কর মওকুফ, বছর বছর ধরে তার এনজিও বন্ধুদের এম্পাওয়ার করা মানে নিজের লোকজনকে আগামী ১০০ বছর খাওয়ার ব্যবস্থা সিস্টেমে ফাইনাল করছে। উনাকে দেখে মেরুদণ্ডহীন অতি জ্ঞানীদের আমি ঘৃণা করা শিখেছি।”
এই বক্তব্যে তিনি ড. ইউনূসের নেতৃত্ব এবং তার প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যক্রমের উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ডা. মাহমুদা মিতু ছাত্র-জনতার মধ্যে একজন জনপ্রিয় নেত্রী হিসেবে পরিচিত। বিশেষ করে ৫ ফেব্রুয়ারি ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে হাতুড়ি নিয়ে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ভাঙ্গাসহ এনসিপির জুলাই পদযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়ে তিনি তরুণদের মধ্যে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। জাতীয় নাগরিক কমিটির মাধ্যমে রাজনীতিতে প্রবেশের পর তিনি এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
তবে, ডা. মিতুর এই পোস্ট এনসিপির অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং নেতৃত্ব নিয়ে চলমান উত্তেজনাকে প্রকাশ্যে এনেছে। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানও এনসিপিকে ড. ইউনূসের দল হিসেবে অভিহিত করে জামায়াতের সঙ্গে তাদের গোপন যোগাযোগের অভিযোগ তুলেছেন। এই পোস্ট এই অভিযোগের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় দলের অভ্যন্তরীণ এবং বাহ্যিক রাজনৈতিক গতিশীলতা নিয়ে নতুন আলোচনার সূত্রপাত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডা. মিতুর এই বক্তব্য এনসিপির অভ্যন্তরে বিভিন্ন মতাদর্শের নেতাদের মধ্যে মতপার্থক্য এবং নেতৃত্বের দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দেয়। জাতীয় নাগরিক পার্টি গঠনের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের তরুণ নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত এই দলের মধ্যে সমঝোতা ও মনোমালিন্যের ঘটনা প্রকাশ পেয়েছে। এই পোস্টের মাধ্যমে ডা. মিতু তার অবস্থান স্পষ্ট করলেও, এটি দলের ঐক্য এবং ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি তরুণ নেতাদের একাংশের অসন্তোষকে প্রকাশ করছে।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে তারা এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। তবে, দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জাবেদ রাসিন পূর্বে বলেছিলেন, “এনসিপি নতুন বাংলাদেশ গড়তে চায়। বিভিন্ন মতাদর্শের সমন্বয় আমাদের দলকে সমৃদ্ধ করবে।”
ডা. মাহমুদা মিতুর এই পোস্ট জাতীয় নাগরিক পার্টির অভ্যন্তরীণ গতিশীলতা এবং তরুণ নেতৃত্বের মধ্যে বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন ঘটিয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে তরুণরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছিল, তাদের মধ্যে এই ধরনের মতপার্থক্য দলের ভবিষ্যৎ এবং দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার কার্যক্রম এবং নির্বাচনী রোডম্যাপের প্রতি জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সব পক্ষের ঐক্য ও সংযম অত্যন্ত জরুরি।

