চবির দুই শিবির কর্মীকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে

চবির দুই শিবির কর্মীকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে
শেয়ার করুন

❐ চবি প্রতিনিধি

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া গুপ্ত সংগঠন ছাত্রশিবিরের কয়েকজন কর্মীকে কুপিয়ে ছাদ থেকে ছুড়ে ফেলার অভিযোগ উঠেছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।

জানা গেছে, অন্তত দুজন শিবির কর্মীকে ভবনের ছাদে কুপিয়ে সেখান থেকে ছুড়ে ফেলে দেওয়া হয়। ভবনের ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া দুই ছাত্রের একজনের নাম রাজিউর রহমান রাজু।

রাজু চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ও কলা অনুষদ শাখার শিবিরের সাথী। তিনি ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গা উপজেলার সনগাঁও ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিলেন।

কারা এমন কাজ করেছে, কোনো শিক্ষার্থীই বলতে পারছেন না। শিবির কর্মীরা ছাত্রলীগের দিকে ইঙ্গিত করলেও তা ধোপে টিকছে না, কারণ গত এক বছর ধরে ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত কেউই ক্যাম্পাসে নেই। অনেককে ধরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। অনেকেই কারাভোগ করছেন, বহিষ্কৃত হয়েছেন সবাই। তাই এমন ঘটনার পেছনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের হাত থাকতে পারে বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

মো. শাহ আলম নামে একজন ফেসবুকে লেখেন, ‘আমার বন্ধু রাজিউর রহমান রাজুকে বাঁচাতে গেলে, বিশ্ববিদ্যালয় শিবিরের সেক্রেটারি মোহাম্মদ পারভেজ, বড় ভাই আশরাফুল আলম এবং আমাকে কোপ মারতে আসছিল। তারা আমাদেরকে রামদা দিয়ে ঘিরে রাখছিল। কোনোমতে আমরা সেখান থেকে চইলা আসি।’

আজ ৩১শে আগস্ট, রোববার দুপুরে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত কয়েকজন শিবির কর্মীকে তাদের সহকর্মীরা উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। আহতরা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

১৪৪ ধারা জারি করার পর এ মুহূর্তে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

গতরাত থেকে শুরু হয়ে রোববার বেলা ১২টা থেকে চবির ২ নম্বর গেটসহ আশপাশের এলাকায় স্থানীয় গ্রামবাসী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে থেমে থেকে কয়েক দফা সংঘাত চলছিল। গ্রামের লোকজনকে বড় রামদাসহ আরও বিভিন্ন ধারালো, দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলায় অংশ নিতে দেখা গেছে।

তবে শিবির কর্মীদের অভিযোগ ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগই গ্রামবাসী হয়ে ফিরে এসে তাদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালাচ্ছে। যদিও গ্রামের সাধারণ মানুষের বক্তব্য, এখানে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের কেউ নেই। চবির শিবির কর্মীরা গতরাতে গ্রামের একজন সাধারণ মানুষের ওপর মব সন্ত্রাস চালানোর কারণে তারা প্রতিবাদ করছেন।

জানা যায়, রাতভর সংঘর্ষের পর রোববার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। শিক্ষার্থীরাও ক্লাসে যোগ দেননি। রাতে সংঘর্ষের পর স্থানীয়রা সকালে আবার সড়কে অবস্থান নেন। ২ নম্বর গেট এলাকার বিভিন্ন আবাসিক ভবনে বিশ্ববিদ্যালয়ের যে শিক্ষার্থীরা থাকেন, তারা যার যার বাসায় আটকা পড়ে যান।

সশস্ত্র শিবির সন্ত্রাসীদের অবস্থান

বেলা ১২টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে ছোট ছোট দলে শিক্ষার্থীরা ওই এলাকায় যাওয়া শুরু করেন। ১২টার পর শিক্ষার্থীরা একজোট হয়ে ২ নম্বর গেট এলাকায় গেলে ফের স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। তখন উপ-উপাচার্য কামাল উদ্দিনসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের লোকজন পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে যান। কিন্তু সংঘর্ষের মধ্যে ইট-পাটকেলের আঘাতে উপ-উপচার্যসহ শতাধিক শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসী আহত হন।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে শিবির কর্মীদের আহাজারি দেখা গেছে। এক শিক্ষার্থীকে গ্রামবাসীর দিকে আগ্নেয়াস্ত্র থেকে গুলি ছুড়তে দেখা গেছে। আবার ধানক্ষেতে ফেলে এক শিবির কর্মীকে আঘাত করতে দেখা যায় কয়েকজন গ্রামবাসীকে। বিকেল ৩টার দিকেও দুপক্ষের মধ্যে থেমে থেমে সংঘর্ষ চলছিল। দুপক্ষই দুই দিকে লাঠিসোঁটা নিয়ে অবস্থান নিয়ে ছিল এবং বৃষ্টির মতো ঢিল ছুড়ছিল।

আরও কিছু ভিডিওতে দেখা যায় পুলিশ ও সেনাবাহিনী আসার পর তাদেরকে সাথে নিয়ে শিবিরকর্মীরা গ্রামে ঢুকে বিভিন্ন ঘরবাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করছে।

এর আগে, গতকাল মধ্যরাতে একই এলাকায় চবির এক ছাত্রী রাত করে বাড়ি ফেরায় দারোয়ানের সাথে বাড়িতে প্রবেশ নিয়ে তর্ক হয়। এর জেরে ওই ছাত্রীর সহপাঠীরা দলবেঁধে দারোয়ানকে মারতে এলে এ নিয়ে গ্রামবাসীর সাথে শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এতে অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন।

এর জেরে পুলিশ, চবির নিরাপত্তা বাহিনী এবং প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। বর্তমানে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসাকেন্দ্রের প্রধান চিকিৎসা কর্মকর্তা আবু তৈয়ব বলেন, রাতে অন্তত ৬০ জন আহত শিক্ষার্থীকে তারা প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়েছেন। তাদের মধ্যে ২১ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) রাসেল বলেন, আমরা ঘটনাস্থলে আছি। এখানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

ইতিমধ্যে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও এসেছেন শিবির কর্মীদের নিরাপত্তা দিতে।

Visited 10 times, 1 visit(s) today