ওএসডি পুলিশ কর্মকর্তাদের হঠাৎ বদলি, প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত

ওএসডি পুলিশ কর্মকর্তাদের হঠাৎ বদলি, প্রশ্নের মুখে ইউনূস সরকারের সিদ্ধান্ত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে বিশেষ এক প্রজ্ঞাপনে তুচ্ছ ও ভিত্তিহীন অভিযোগে পুলিশের ১১ জন উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি)সহ ৭৬ জন ওএসডি পুলিশ কর্মকর্তাকে হঠাৎ বিভিন্ন রেঞ্জ, জেলা ও ইউনিটে সংযুক্ত করে পদায়ন করা হয়েছে। দায়িত্ব নেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের এমন সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক হঠকারিতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই ৭৬ কর্মকর্তা এতদিন বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে জননিরাপত্তা বিভাগে যুক্ত ছিলেন এবং কার্যত তারা কোনো নির্দিষ্ট দায়িত্বে ছিলেন না। এবার তাদেরকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়েছে এমন সময়, যখন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনগণের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। এই ঘটনা পুরো পুলিশ বাহিনীর উপর প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ঢাকায় অবস্থান করা ওএসডি কর্মকর্তাদের মধ্যে কেউ কেউ মতবিনিময় বা আলোচনায় অংশ নিয়েছেন এমন ভিত্তিহীন অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাদের পুনঃসংযুক্তির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এই অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণ হয়নি।

অভিযোগের ভিত্তিতে দায়িত্বশীল পদে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের এইভাবে ছত্রভঙ্গ করা শুধু অমানবিক নয়, বরং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মনোবলে চরম আঘাত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

উল্লেখ্য, যেসব ইউনিটে কর্মকর্তাদের সংযুক্ত করা হয়েছে, সেসব জায়গায় তাদের জন্য কার্যকর কোনো দায়িত্ব নির্ধারিত নেই। বাস্তবতা হচ্ছে, তারা আগের মতোই কাজহীন থাকবেন, শুধুমাত্র ঢাকার বাইরে অবস্থান করবেন। এমন সিদ্ধান্তে পুলিশের অভ্যন্তরে হতাশা, ক্ষোভ এবং অনিশ্চয়তা বেড়ে চলেছে। ভেঙে পড়ছে তাদের মনোবল।

এছাড়াও যারা দীর্ঘদিন ধরে ওএসডি ছিলেন এবং প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্তে চাকরি থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন, তাদের মধ্যেও অনেক অভিজ্ঞ, দক্ষ ও পেশাদার কর্মকর্তা রয়েছেন। তাদের হঠাৎ এক প্রকার নির্বাসনে পাঠানো হলে সেটি একদিকে যেমন দক্ষ জনবলের অপচয়, অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাঠামোকে দুর্বল করার আশঙ্কা তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় পুলিশ ইউনিটগুলোতে দায়িত্বশীল ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব প্রয়োজন। সেখানে যোগ্য কর্মকর্তাদের না রেখে, বরং অভ্যন্তরীণ সন্দেহ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণে এভাবে বদলি বা সংযুক্তি করা হলে তা শুধু বাহিনীর মনোবলই ভাঙবে না, বরং জনগণের নিরাপত্তাও হুমকির মুখে পড়বে।

বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ও জনগণের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধির পটভূমিতে পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও দক্ষতাকে অকারণে প্রশ্নবিদ্ধ করা একেবারেই অনভিপ্রেত বলে মনে করেন সুধীজন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অংশ না বানিয়ে পুলিশকে স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া সমীচিন বলে মনে করেন সুধীমহল। একটি শক্তিশালী, সম্মানিত ও মনোবলসম্পন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ছাড়া রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা রক্ষা সম্ভব নয় বলে মনে করেন তারা।

Visited 15 times, 1 visit(s) today