বিনা নোটিসে বিসিবির ৬০ কর্মীর বেতন বন্ধ করে দিলেন বুলবুল

বিনা নোটিসে বিসিবির ৬০ কর্মীর বেতন বন্ধ করে দিলেন বুলবুল
শেয়ার করুন

কাজে কোন গাফিলতি নেই, নেই অন্য কোন খামতি। তবু মাস শেষে বাকিরা বেতন পেলেও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)’র চুক্তিভুক্ত ৬০ জন কর্মী বেতন পেলেন না। কি তাদের অপরাধ? কেন তাদের এমনটা করা হলো বুঝতে পারছেন না তারা।

নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, বিসিবির ভেতরে তৈরি হয়েছে চরম অস্থিরতা। নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল নিজের পছন্দের লোকদের চাকরি দিতে পুরনো কর্মীদের ছাঁটাই করার দিকে হাঁটছেন। কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করে চুক্তিতে থাকা ৬০ জন কর্মীর বেতন আটকে দিয়েছেন তিনি।

এই ৬০ জনের ভেতর আছেন স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করা কয়েকজন কোচও। সম্প্রতি নতুন এইচআর পলিসি ঠিক করতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে একটি এক ফার্ম নিয়োগ দেন তিনি। গণমাধ্যমে বলেন, বিসিবির এইচআরকে ঢেলে সাজাতে চান তিনি। আসল উদ্দেশ হচ্ছে পুরনোদের বাদ দিয়ে পছন্দের লোক নিয়োগ দেওয়া।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিসিবির কর্মকর্তা বলেছেন, ‘নতুন মাস শুরুর আগেই আমাদের বেতন দেওয়া হয়। এবার সবাই বেতন পেলেও আমরা ৬০ জন বেতন পাইনি। শুনছি আমাদের বেতন না দিয়ে চলে যেতে বাধ্য করা হবে। বেতনের উপর আমাদের সংসার চলে। হুট করে আমরা এখন কি করব? বকেয়া টাকা না পাওয়ার ভয়ে এখন প্রকাশ্যে প্রতিবাদও করতে পারছি না।’

আরেকজন বলেন, ‘বুলবুল ভাই ক্রীড়া উপদেষ্টার সঙ্গে মিলে নতুন কর্মী নিয়োগ দিতে চলেছেন বলে শুনছি। যাদের নিয়োগ দেওয়া হবে তাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা করে নেওয়া হয়েছে বলেও আমাদের কানে এসেছে।’

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর বিসিবির পরিচালনা পর্ষদে একাধিকবার রদবদল এসেছে। ফারুক আহমেদকে সভাপতি করা হয় প্রথমে। পরে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয় কারণ তাকে দিয়ে অনেক অনৈতিক কাজই করা যাচ্ছিলো না।

তিনি সরকারের অনেক কথা না শুনে নিজের বলয় তৈরি করছিলেন। বুলবুলকে নিয়ে আসা হয় তার চারিত্রিক কারণে। সাবেক এই অধিনায়ক হুকুম পালনে পারঙ্গম। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে সেই হুকুম অনৈতিক হলেও তাও কেন তিনি মেনে নিচ্ছেন?

বিসিবির সভাপতির পর অবৈতনিক। আইসিসির মোটা বেতনের চাকরি থেকে এসে অবৈতিক একটা পদে কেন যোগ দিলেন বুলবুল এই প্রশ্নও উঠে শুরু থেকে। জানা গেছে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের বিতর্কিত উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ তাকে আয়ের ব্যবস্থা করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

ইতোমধ্যে আসিফের পিএসের বিরুদ্ধে ৩০০ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। তার বাবা বিল্লাল হোসেনের বিরুদ্ধে টেন্ডারবাজি, মব সন্ত্রাসসহ বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। এই একই বলয় এবার বিসিবির কর্মী নিয়োগের বাণিজ্যও করতে চায়।

Visited 17 times, 1 visit(s) today