আন্তর্জাতিক
থাইল্যান্ড ও ক্যাম্বোডিয়ার বিতর্কিত সীমান্ত অঞ্চলে সামরিক বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই কর্তৃপক্ষ। এদের মধ্যে ১১ জনই থাইল্যান্ডের সাধারণ নাগরিক, এবং একজন সেনা সদস্য। নিহতদের মধ্যে একজন ৮ বছরের শিশু ও একজন ১৫ বছরের কিশোর রয়েছে।
বৃহস্পতিবার ভোরে উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। দুপক্ষই একে অপরকে সংঘর্ষের জন্য দায়ী করেছে। থাইল্যান্ডের অভিযোগ, ক্যাম্বোডিয়া প্রথমে রকেট হামলা চালায়, এর প্রতিক্রিয়ায় থাই বিমান বাহিনী ক্যাম্বোডিয়ার সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।
থাইল্যান্ড ইতোমধ্যে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে, আর ক্যাম্বোডিয়া তাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক হ্রাস করেছে, থাই বাহিনীকে “অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ” করার অভিযোগ এনে। সীমান্ত এলাকার জনগণকে সরিয়ে নিতে উভয় দেশই নির্দেশ দিয়েছে। থাইল্যান্ডের পক্ষ থেকে প্রায় ৪০,০০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বুড়িরাম প্রদেশের বান ডান জেলার বাসিন্দা সুতিয়ান ফিওচান বিবিসিকে বলেন, “এটা খুবই গুরুতর পরিস্থিতি। আমরা এখনো লোকজনকে সরিয়ে নিচ্ছি।”
দুই দেশের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি করা হয়েছে। থাইল্যান্ডের দাবি, ক্যাম্বোডিয়ান ড্রোন সীমান্তে থাই সেনাদের ওপর নজরদারি চালানোর চেষ্টা করছিল। ক্যাম্বোডিয়ার দাবি, থাই সেনারা এক পুরনো চুক্তি ভেঙে সীমান্তবর্তী এক খেমার-হিন্দু মন্দিরের দিকে অগ্রসর হয়েছিল।
এই সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস শতাধিক বছরের পুরোনো। ২০০৮ সালে ক্যাম্বোডিয়া একটি ১১শ শতকের মন্দিরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করলে দ্বন্দ্ব তীব্র হয়। তখন থেকেই উভয় দেশের মধ্যে সীমিত সংঘর্ষ চলতে থাকে।
সম্প্রতি মে মাসে এক ক্যাম্বোডিয়ান সৈন্য নিহত হওয়ার পর থেকে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়। এরপর দুই দেশই একে অপরের ওপর বাণিজ্যিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে, সীমান্তে সেনা মোতায়েন বাড়ায়।
থাইল্যান্ডের ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাই বলেন, “এই বিরোধ অত্যন্ত সংবেদনশীল। একে আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান করতে হবে।”
ক্যাম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত জানান, তার দেশ শান্তিপূর্ণ সমাধান চায়, তবে “সশস্ত্র আগ্রাসনের জবাবে সশস্ত্র প্রতিক্রিয়া জানানো ছাড়া কোনো উপায় নেই।”
পরিস্থিতি আপাতত নিয়ন্ত্রণে থাকলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুই দেশেই এখন এমন রাজনৈতিক নেতৃত্ব নেই যারা দৃঢ়ভাবে উত্তেজনা প্রশমনে উদ্যোগ নিতে পারে।
থাইল্যান্ডের ক্ষমতাসীন জোট সরকারও অনিশ্চয়তার মুখে, যেখানে প্রভাবশালী প্রাক্তন নেতা থাকসিন সিনাওয়াত্রার সঙ্গে ক্যাম্বোডিয়ার রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
সাম্প্রতিক এই সংঘর্ষ দুই দেশের মধ্যে একটি দীর্ঘদিনের বিরোধকে আবার সামনে এনে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতে আরও বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
