ড. ইউনূসের কূটনৈতিক ব্যর্থতা: ভুটানে পণ্য পরিবহনে ভারতীয় ভূমি ব্যবহার বন্ধ, ক্ষতির মুখে অর্থনীতি

ড. ইউনূসের কূটনৈতিক ব্যর্থতা: ভুটানে পণ্য পরিবহনে ভারতীয় ভূমি ব্যবহার বন্ধ, ক্ষতির মুখে অর্থনীতি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ হয়ে ভুটানে পণ্য পরিবহনের পরীক্ষামূলক ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম ভারতের ভূখণ্ড ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় শুরুতেই আটকে গেছে। থাইল্যান্ড থেকে চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে আসা প্রথম ট্রান্সশিপমেন্ট চালানের একটি কন্টেইনার লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দরে অবস্থান করছে।

গত ২৮শে নভেম্বর, বৃহস্পতিবার কন্টেইনারটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে পৌঁছায়। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি না দেওয়ায় চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে এটি ভারতে প্রবেশ করানো সম্ভব হয়নি।

বাংলাদেশ–ভুটান প্রটোকল চুক্তির আওতায় দুই দেশের যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সমুদ্রবন্দর–সড়কপথ ব্যবহার করে দুটি পরীক্ষামূলক চালান পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয় গত এপ্রিলে বাণিজ্যসচিব পর্যায়ের বৈঠকে। এ সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রথম চালানটি চট্টগ্রাম হয়ে বুড়িমারীতে আসে।

মূলত ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার গত বছরের ৮ই আগস্ট দ্বায়িত্ব নেওয়ার পরে থেকে ভারতবিরোধী মন্তব্য করতে থাকে। এ প্রেক্ষাপটে এ বছরের ৮ই এপ্রিল থেকে ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা বাতিল করে ভারত।

যদিও ভারতের কূটনৈতিক বক্তব্য ছিল, তাদের বিমানবন্দর ও বন্দরগুলোতে জনাকীর্ণতা ও সময়মতো রপ্তানি ব্যাহত হচ্ছে — তাই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শেখ হাসিনার সরকারের সময় ২০২০ সালের জুন থেকে বাংলাদেশকে তৃতীয় দেশে রপ্তানির জন্য ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করার বিশেষ ট্রান্সশিপমেন্ট সুবিধা দেওয়া হয়েছিল।

এ নিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাংলাদেশের রপ্তানি ও ট্রানজিট কার্যক্রমে এটি বড়ভাবে প্রভাব ফেলবে — বিশেষত ভুটান, নেপাল, তৃতীয় দেশ এবং যৌথ রুটের জন্য।

এবার ভারতের ভূমি ব্যবহার করে বাংলাদেশ থেকে ভূটানের পণ্য আটকানোর মাধ্যমে সেই বিপদেই পড়লো দেশের অর্থনীতি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংকক থেকে ‘আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড’-এর পাঠানো এই চালানে ছয় ধরনের পণ্য রয়েছে- ফলের জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু ফ্লেভারের ক্যান্ডি ও শ্যাম্পুসহ অন্যান্য আইটেম। কন্টেইনারটি ২২শে সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দরে আসে এবং পরে সড়কপথে বুড়িমারীতে পৌঁছায়।

বেনকো লিমিটেডের প্রতিনিধি ও সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ফারুক হোসেন বলেন, চালানটি বুড়িমারী স্থলবন্দরে রয়েছে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ অনুমতি দিলে পণ্যটি ভুটানে পাঠানো হবে।

বুড়িমারী স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান জানান, বৃহস্পতিবার থেকেই কন্টেইনারটি ইয়ার্ডে রক্ষণাবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

বুড়িমারী কাস্টমস স্টেশনের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভুটানের চালানের সব কাস্টমস প্রক্রিয়া বাংলাদেশ সম্পন্ন করেছে। এখন শুধু ভারতীয় কাস্টমসের অনুমতির অপেক্ষা।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, ভারতীয় কর্তৃপক্ষের অনুমতি মিলবে কিনা কিংবা কবে অনুমতি দেওয়া হতে পারে—তা নিশ্চিত হয়নি। ফলে পরীক্ষামূলক এই ট্রান্সশিপমেন্ট কার্যক্রম অনিশ্চয়তায় রয়েছে।

Visited 78 times, 1 visit(s) today