থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, ঘরে ফেরার আশা বাস্তুচ্যুতদের

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে যুদ্ধবিরতি কার্যকর, ঘরে ফেরার আশা বাস্তুচ্যুতদের
শেয়ার করুন

থাইল্যান্ড–কম্বোডিয়া সীমান্তে প্রায় তিন সপ্তাহের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। শনিবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা (জি এম টি 05:00) থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় বাস্তুচ্যুত প্রায় দশ লাখ মানুষের ঘরে ফেরার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।

এক যৌথ বিবৃতিতে দুই দেশের প্রতিরক্ষামন্ত্রীরা বর্তমান অবস্থানেই সংঘর্ষবিরতি বজায় রাখা, অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন বন্ধ রাখা এবং সীমান্তের নিকটবর্তী এলাকায় বসবাসকারী বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সম্মত হন। এছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার ৭২ ঘণ্টা পর থেকে থাইল্যান্ডের হেফাজতে থাকা ১৮ জন কম্বোডিয়ান সেনাকে মুক্তি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

চীনের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সহায়তায় দীর্ঘ আলোচনা শেষে এ সমঝোতা হয়। সমঝোতায় বাস্তুচ্যুত… Read more

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ব্যাপক সমালোচিত ‘ছদ্ম নির্বাচন’ শুরু

যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারে ধাপে ধাপে জাতীয় নির্বাচন শুরু হয়েছে, যা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হচ্ছে “ছদ্ম নির্বাচন” হিসেবে। প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বেশিরভাগই বিলুপ্ত, তাদের শীর্ষ নেতাদের অনেকে কারাবন্দী, এবং চলমান গৃহযুদ্ধের কারণে দেশের প্রায় অর্ধেক এলাকায় ভোট গ্রহণই সম্ভব নাও হতে পারে।

প্রায় পাঁচ বছর আগে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের পর এই প্রথম দেশজুড়ে নির্বাচন আয়োজন করছে সামরিক সরকার। এর মধ্যেই সশস্ত্র সংঘাত, অর্থনৈতিক বিপর্যয় এবং মানবিক সংকটে দেশটি গভীর অচলাবস্থায় রয়েছে।

সামরিক জান্তা ক্ষমতার বৈধতা প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করার কৌশল হিসেবে এই নির্বাচন আয়োজন করছে বলে সমালোচকদের অভিমত। নির্বাচন ভণ্ডুলকরণ বা বিরোধিতার অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে নতুন আইনের অধীনে মামলা হয়েছে, যার শাস্তির মধ্যে কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ডও রয়েছে।

গণমাধ্যম, শিল্পী ও নাগরিক সমাজের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যক্তি নির্বাচনের সমালোচনা করায় দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ—নির্বাচনবিষয়ক প্রচারণা ব্যাহত করা।

এদিকে, একদিকে সামরিক বাহিনীর চাপ, অন্যদিকে সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হুমকির ফলে সাধারণ নাগরিকরা চরম অনিশ্চয়তা ও জোরাজুরির মধ্যে রয়েছে। বিদ্রোহী ও জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর নিয়ন্ত্রণে থাকা বহু অঞ্চলে ভোট আয়োজন করাই সম্ভব হয়নি।

দেশটির ৩৩০টির মধ্যে ২৭৪টি টাউনশিপে তিন ধাপে ভোট গ্রহণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, বাকি এলাকাগুলোকে অস্থিতিশীল ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে উল্লেখযোগ্য অংশে ভোট না হওয়ায় অংশগ্রহণের হার অনুমান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

দেশব্যাপী প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে মাত্র কয়েকটি দল, যার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সামরিক সমর্থিত ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। অপরদিকে, অং সান সু চির দল ন্যাশনাল লীগ ফর ডেমোক্রেসিসহ প্রায় ৪০টি দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, এবং দলটির বহু নেতা কারাগারে বা নির্বাসনে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধাপে ধাপে ভোট আয়োজনের ফলে পরিস্থিতি অনুযায়ী কৌশল পরিবর্তনের সুযোগ রাখছে কর্তৃপক্ষ। অনেক নাগরিকের বিশ্বাস, এই নির্বাচন জনগণের ইচ্ছার প্রতিফলন নয় বরং ক্ষমতা ধরে রাখার একটি প্রক্রিয়া মাত্র।

পশ্চিমা দেশগুলো নির্বাচনটিকে অবাঞ্ছিত ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যদিও সামরিক সরকার দাবি করছে—এই নির্বাচনই দেশকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের পথে ফেরানোর প্রক্রিয়া। তবে সমগ্র পরিস্থিতি ইঙ্গিত করে, বিরোধ, সহিংসতা এবং অনাস্থার মধ্যে অনুষ্ঠিত এই ভোট দেশটির সংকট আরও গভীর করতে পারে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today