গড়ে উঠেছে উদ্যোক্তা: ছিনতাই-ডাকাতির জন্য ভাড়ায় মিলছে চাপাতি-মোটরসাইকেল

গড়ে উঠেছে উদ্যোক্তা: ছিনতাই-ডাকাতির জন্য ভাড়ায় মিলছে চাপাতি-মোটরসাইকেল
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ২০শে জুলাই ২০২৫

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস সবসময় বলে এসেছেন, চাকরির পেছনে না ছুটে তরুণদের উদ্যোক্তা হতে হবে। তার সেই কথায় অনুপ্রাণিত হয়েই কিনা গড়ে উঠেছে নতুন নতুন উদ্যোক্তা এবং সৃষ্টি হয়েছে অপরাধনির্ভর কর্মসংস্থান।

বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ইন্ডিপেন্ডেন্ট টিভির সংবাদসূত্র জানাচ্ছে, চুরি-ছিনতাই-ডাকাতি ছাড়াও খুন-জখম ও মব সন্ত্রাসের জন্য ভাড়ায় মিলছে চাপাতি এবং মোটরসাইকেল। এসব অপরাধ কর্ম ঘটিয়ে এসে করা হচ্ছে পেমেন্ট।

এভাবেই রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অপরাধের জন্য সাজ-সরঞ্জামের যোগান দিচ্ছে একটি চক্র। শুধু তাই নয়, পুলিশের হাতে ধরা পড়ার পর জামিনে ছাড়িয়ে আনতেও টাকা ঢালছে তারা। জামিনে বেরিয়ে আবারও ছিনতাই-ডাকাতির পর পরিশোধ করা হচ্ছে টাকা। সম্প্রতি পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে এই ওয়ানস্টপ সার্ভিস অ্যান্ড সলিউশনের তথ্য।

এমন লাভজনক ব্যবসা এবং সার্ভিস প্রোভাইডারদের নতুন উদ্যোক্তার সৃষ্টি বলা যায় কিনা, এটা নিয়ে ড. ইউনূসের মত ঝানু অর্থনীতিবিদরা বলতে পারবেন।

সংবাদে বলা হয়েছে, গত ১১ই জুলাই রাজধানীর শ্যামলীতে পথচারীর কাছ থেকে চাপাতি হাতে ছিনতাইকারীরা কেড়ে নেয় ব্যাগ-মোবাইলসহ সাথে থাকা সবকিছু। এমনকি খুলে নেওয়া হয় জামা-জুতাও। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য।

এই চক্রের মূলহোতা কবির। তার কাছ থেকেই চাপাতি ও মোটরসাইকেল ভাড়া নেয় ছিনতাইকারীরা। আর তাদের টার্গেট হয় প্রতিদিন ঢাকার কোনো না কোনো এলাকার মানুষ। চাপাতি ও মোটরসাইকেল নেয়ার জন্য আগাম কোনো টাকা দিতে হয় না। ছিনতাই করা মালামাল বিক্রির পর ভাড়া মেটানো হয়। আবার ছিনতাইয়ের মূল্যবান জিনিপত্র কিনেও নেয় চক্রের মূলহোতা। সব মিলিয়ে প্যাকেজ সিস্টেমে চলে এই লেনদেন। এটাই ওয়ানস্টপ সার্ভিস অ্যান্ড সলিউশন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মোহাম্মদ রাকিব খান বলেন, তারা ছুরি-চাপাতি ও মোটরসাইকেল ভাড়া দেয়। এর বিনিময়ে ছিনতাই করা মালামাল তাদের কাছে বিক্রি করে ছিনতাইকারীরা।’

পুলিশের দাবি, ছিনতাইয়ের জন্য ধারালো এসব অস্ত্র ও বাহন ভাড়া দেয়ার ঘটনা এবারই প্রথম উঠে এসেছে।

ডিএমপির গোয়েন্দা শাখার যুগ্ম কমিশনার নাসিরুল ইসলাম বলেন, ‘এসব অপরাধে কারা জড়িত আছে, আশপাশের লোকজনের মাধ্যমে আমরা তা শনাক্ত করার চেষ্টা করি। এর পাশাপাশি ইতোপূর্বে কারা এ ধরনের অপরাধে জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় আনি।’

দুদিন আগেই একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। যেখানে দেখা গেছে প্রকাশ্যে এক ছিনতাইকারী বড় আকারের চাপাতি হাতে এক ব্যক্তির ব্যাগ ছিনিয়ে নিয়ে পুলিশ সদস্যদের সামনে দিয়েই ব্যাগ ও চাপাতি হাতে নিয়ে নির্বিঘ্নে হেঁটে চলে যাচ্ছে। নাগরিকদের মতে, অপরাধের মাত্রা ভয়াবহভাবে বেড়েছে, বাধা না দিলেও কুপিয়ে মেরে ফেলছে মানুষ, প্রকাশ্যেই চলছে এসব।

নিত্যনতুন কৌশলের মাধ্যমে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিচ্ছে অপরাধীরা। আর, তাদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধ সৃষ্টির জন্য, অপরাধী সৃষ্টির জন্য যদি বিনিয়োগ হয়, তাহলে বুঝতে হবে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমান্বয়ে অবনতির দিকে যাচ্ছে। অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আইন বা বিচারের তোয়াক্কা করছে না।

থানায় অভিযোগ দায়েরের ভিত্তিতে প্রাপ্ত তথ্য বলছে, চলতি বছরের প্রথম ৬ মাসে সারা দেশে ডাকাতি, ছিনতাই, চুরির ঘটনা অন্তত ৭ হাজার ২৩৪টি।

Visited 12 times, 1 visit(s) today