নিজস্ব প্রতিবেদক
গণভবনকে ‘জুলাই জাদুঘর’ করার কাজে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে যেভাবে প্রায় ১১১ কোটি টাকার ব্যয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তাতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি বলেছে, যেভাবে বিদ্যমান আইন ও নীতিমালা ‘এড়িয়ে’ সরাসরি ক্রয়পদ্ধতির যুক্তিতে কাজ দেওয়া হয়েছে, তা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রতি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। গতকাল এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে টিআইবি।
দরপত্র ছাড়া এ ক্রয়প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ আখ্যা দিয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “অভ্যুত্থানের স্মৃতি, নিহতদের স্মারক ও আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন ঘটনা তুলে ধরতে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ গণভবনকে জুলাই জাদুঘর করার উদ্যোগটি প্রশ্নের মুখে পড়ার ঝুঁকি সৃষ্টি হয়েছে।
সাধারণত জরুরি অবস্থা, আকস্মিক দুর্যোগ, বিশেষায়িত কোনো পণ্য বা সেবা বা বিশেষ পরিস্থিতিতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে সরকারি ক্রয়ের বিধান রয়েছে, যেখানে দ্রুত পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা প্রয়োজন হয়। কিন্তু সরকারের ব্যাখ্যা, জাদুঘরে রূপান্তরের কার্যক্রম দ্রুত শেষ করতে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে কাজ দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে, উল্লেখ করা হয় টিআইবির প্রতিবেদনে।
প্রকল্পের সিদ্ধান্ত গত বছরের ডিসেম্বরে নেওয়া হয়। ক্রয়নীতি অনুযায়ী উন্মুক্ত প্রতিযোগিতার জন্য দরপত্র ডাকাসহ যথাযথ নীতি অনুসরণের জন্য সময়ও হাতে ছিল। অথচ ৭ মাস পার করে নির্ধারিত সময়সীমার তিন সপ্তাহ আগে সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি বেছে নিয়ে সরকারি ক্রয় বিধিমালার ৭৬(১) ও ৭৬(২) ধারাকে ‘পাশ কাটানো’ হয়েছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে টিআইবি।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, জুলাই জাদুঘর নির্মাণ কোনো বিশেষায়িত ক্রয় নয়। এতে বিদ্যুৎ ও যান্ত্রিক (ইএম) এবং পূর্ত খাতের প্রায় ১১১ কোটি টাকার কাজ দুটি ভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সরাসরি দেওয়া হয়েছে। প্রশ্ন হলো, নিয়মিত এ ক্রয়ের জন্য কেন সরাসরি ক্রয়পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে?
তিনি আরও প্রশ্ন করেন, এ কাজের জন্য যাদের কার্যাদেশ দেওয়া হলো, সেট কীসের ভিত্তিতে? কোন যুক্তিতে তাদের নির্বাচিত করা হলো; কার্যাদেশের মূল্য নির্ধারণের ভিত্তিই-বা কী? এ ক্ষেত্রে ব্যয়িত অর্থের ভ্যালু ফর মানি কীভাবে নিশ্চিত করা হবে?
এসব প্রশ্নের যথাযথ উত্তর ছাড়াই এভাবে কার্যাাদেশ প্রদানের প্রক্রিয়া কী ‘যোগসাজসমূলক’ এবং ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ – এমন প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ।
