উখিয়ায় ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা কামালকে অপহরণের পর হত্যা

উখিয়ায় ইউপি সদস্য যুবলীগ নেতা কামালকে অপহরণের পর হত্যা
শেয়ার করুন

হত্যা-সহিংসতার মিছিল বন্ধ হয়নি ১১ মাসেও

নিজস্ব প্রতিবেদক

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার জালিয়াপালং ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য এবং উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক কামাল হোসেন মেম্বারকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

আজ ৮ই জুলাই, মঙ্গলবার সকালে উখিয়ার মনখালী এলাকার একটি খালে তার বস্তাবন্দি মৃতদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। স্থানীয়রা মরদেহটি দেখে শনাক্ত করেন।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কামাল হোসেন বাসা থেকে বের হন। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় এবং তার কোনো খোঁজ মেলেনি। রাতভর সম্ভাব্য সব স্থানে খোঁজাখুঁজির পরও তাকে না পাওয়ায় পরিবার স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিষয়টি জানায়।

মঙ্গলবার দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে স্থানীয়রা খালে ভাসমান মরদেহ দেখতে পান। খবর পেয়ে মনখালী পুলিশ ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং এটি কামাল হোসেনের বলে নিশ্চিত করে। মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মনখালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দুর্জয় বড়ুয়া জানান, “স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে আমরা মরদেহ উদ্ধার করেছি। হত্যার কারণ ও জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।”

তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, উখিয়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন একটি লাঠিয়াল বাহিনী এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। এলাকায় প্রতিহিংসার রাজনীতির কারণে এই ঘটনা ঘটেছে বলে অনেকে মনে করছেন।

নিহত কামাল হোসেন উখিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের একজন প্রভাবশালী সদস্য ছিলেন। তিনি রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি এলাকার উন্নয়ন ও জনসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন।

জানা গেছে, তার বিরুদ্ধে একাধিক রাজনৈতিক মামলা ছিল, যা স্থানীয়রা ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ বলে দাবি করেছেন।

কামাল হোসেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে জালিয়াপালংসহ উখিয়া উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনগুলো তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে। অনেকে এই ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে উল্লেখ করে দোষীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। পুলিশ ঘটনার তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।

Visited 8 times, 1 visit(s) today