আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় একটি দুর্গা মন্দির ধ্বংসের ঘটনায় ভারত বৃহস্পতিবার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং বলেছে, এই ঘটনা প্রমাণ করে যে ঢাকায় ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার দেশের সংখ্যালঘু হিন্দু জনগোষ্ঠী এবং তাদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এই মন্তব্য করেন এমন এক সময়ে, যখন গত বছরের আগস্টে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর থেকে ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ব্যাপক অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে নোবেল বিজয়ী ড. ইউনুসের নেতৃত্বাধীন একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন বাংলাদেশ পরিচালনা করছে।
‘চরমপন্থীদের দাবি বাস্তবায়ন করেছে সরকার’
সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে ররণধীর জয়সওয়াল বলেন, “আমরা জানতে পেরেছি যে ঢাকার খিলখেত এলাকায় অবস্থিত একটি দুর্গা মন্দির ধ্বংস করার জন্য চরমপন্থীরা বহুদিন ধরেই দাবি জানিয়ে আসছিল। অথচ, সরকারের উচিত ছিল সেই মন্দিরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। পরিবর্তে তারা এটিকে অবৈধ দখলের ঘটনা হিসেবে প্রচার করে আজ মন্দিরটি ভেঙে ফেলার অনুমতি দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই ঘটনায় প্রতিমারও ক্ষতি হয়েছে, যা সরানোর আগেই ঘটেছে। এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশে বারবার ঘটছে, এটি আমাদের অত্যন্ত হতাশ করছে।”
হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের: ভারত
জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্ব হল হিন্দু সম্প্রদায়, তাদের সম্পত্তি ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।”
গঙ্গা চুক্তি ও বাণিজ্য নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ
রণধীর জয়সওয়ালকে ১৯৯৬ সালের গঙ্গা পানি চুক্তি নবায়ন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশ ৫৪টি আন্তঃসীমান্ত নদী ভাগ করে নিচ্ছে এবং এসব বিষয়ে আলোচনা করার জন্য একটি যৌথ নদী কমিশন রয়েছে।
তিনি বলেন, “আমরা সব বিষয়ে আলোচনায় আগ্রহী, তবে সেটি হতে হবে পারস্পরিক স্বার্থের পরিবেশে।”
এছাড়া, বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য রপ্তানিতে ভারতের আরোপিত সীমাবদ্ধতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ নিজেই দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্যতা, সমতা ও পারস্পরিকতার কথা বলেছে। সেই সূত্র ধরেই আমরা এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। বেশ কয়েকটি দ্বিপক্ষীয় আলোচনায় ভারত এই সমস্যা তুলে ধরেছে, যার সমাধান এখনও বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আসেনি।”
গত মাসে ভারত বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক ও অন্যান্য ভোক্তা পণ্যের রপ্তানি স্থলবন্দর দিয়ে সীমিত করে। এর আগে, প্রায় ৫ বছর ধরে চলে আসা বাংলাদেশের তৃতীয় দেশের পণ্য ভারতীয় বন্দর ও বিমানবন্দর ব্যবহার করে পরিবহনের সুবিধা বাতিল করে দিল্লি।
এই ঘটনার পর ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও একবার আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে। ভারতের অবস্থান স্পষ্ট—ধর্মীয় স্বাধীনতা, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং পারস্পরিক বাণিজ্যে সমতা ছাড়া ভবিষ্যৎ সম্পর্ক স্বাভাবিক হবে না।
