আন্তর্জাতিক
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি গত মঙ্গলবার ইরানি জাতির উদ্দেশে একটি টেলিভিশন ভাষণে ইসরায়েলের সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। ইরান-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে তিনি জাতিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার এবং শহীদদের সম্মান রক্ষার আহ্বান জানান।
ভাষণে খামেনি বলেন, “ইসরায়েলের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ইরান কখনো নীরব থাকবে না। আমাদের সশস্ত্র বাহিনী শত্রুর বিরুদ্ধে কঠোর জবাব দেবে।”
তিনি ইসরায়েলকে “মধ্যপ্রাচ্যের অশান্তির মূল কারণ” হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, তাদের আগ্রাসন পশ্চিমা শক্তির সমর্থনে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি ইরানি জনগণকে ধৈর্য ও সংকল্পের সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “আমাদের শহীদদের রক্ত বৃথা যাবে না। ইসলামি প্রজাতন্ত্রের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আমরা অটল।” খামেনি আরও জোর দিয়ে বলেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় প্রস্তুত।
এই ভাষণ ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনার একটি সংকটময় মুহূর্তে এসেছে, যখন গত কয়েক সপ্তাহে উভয় পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়েছে। ইরানি সামরিক বাহিনী ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে, যা আঞ্চলিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
খামেনির এই ভাষণ ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও তাৎপর্যপূর্ণ। তিনি জনগণের মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়ে সরকারের প্রতি সমর্থন জোরদার করার চেষ্টা করেছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ভাষণ ইরানের কঠোর অবস্থানের প্রতিফলন এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে একটি স্পষ্ট বার্তা যে দেশটি বাহ্যিক চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় নিজেদের প্রতিরক্ষার অধিকার রক্ষা করবে। এদিকে, জাতিসংঘ এই উত্তেজনা নিরসনে উভয় পক্ষকে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের এই নতুন পর্ব মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আগামী দিনগুলোতে পরিস্থিতি কোন দিকে যায়, তা বিশ্ব সম্প্রদায় নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
