নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারে চরম নৈরাজ্য, দুর্নীতি ও নিষ্ঠুরতার অভিযোগ উঠেছে কারাপ্রধান এ.কে.এম মাসুমের বিরুদ্ধে। তার শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনে অতিষ্ঠ বন্দীরা আশঙ্কা করছেন, যদি অবিলম্বে এই অমানবিক পরিস্থিতির অবসান না ঘটে, তাহলে যে কোনো সময় ঘটতে পারে আরও বড় দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তরীণ আওয়ামী লীগ নেতা ও বিরুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান সুজন (৪৫) এবং তার মৃত্যু প্রত্যক্ষ করে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান আরও এক বন্দি।
১৬ই জুন শনিবার সকাল ১০টার দিকে কারাগারের সূর্যমুখী সেলের দ্বিতীয় তলায় সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দেন সুজন। প্রত্যক্ষদর্শী একজন বন্দি সেই দৃশ্য দেখেই স্ট্রোক করে সেখানেই মারা যান। ঘটনার পর দু’জনের মৃতদেহেই অসৌজন্যমূলকভাবে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।
জানা গেছে, ১৪ই জুন শুক্রবার রাত ১১টার দিকে কারাপ্রধান মাসুমের নেতৃত্বে কয়েকজন কারারক্ষী সূর্যমুখী সেলে তল্লাশি চালিয়ে স্যুয়ারেজ লাইনের পাইপ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করেন। ফোনের মালিকানা নিশ্চিত না হওয়া সত্ত্বেও, মাসুম রাজনৈতিক প্রতিহিংসাবশত আওয়ামী লীগ নেতা সাইদুর রহমান সুজনকে টার্গেট করে সেল থেকে টেনে বের করে সকল বন্দীর সামনে অকথ্য ভাষায় গালি দেন এবং নির্মমভাবে পিটিয়ে অপমান-অপদস্থ করেন।
একজন দায়িত্বপ্রাপ্ত কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারাপ্রধান মাসুম গত বছরের ৯ই সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জে বদলি হয়ে আসার পর থেকেই কারাগারে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে দুর্নীতি-অনিয়মের সাম্রাজ্য বানিয়েছেন। আওয়ামীপন্থি বন্দীদের ওপর চলছে নির্যাতন এবং চাঁদাবাজি। চাঁদা না দিলে বা আপত্তি জানালে চলে ‘তল্লাশির নামে’ নির্যাতন। সুজনও চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর পর থেকেই মাসুমের চক্ষুশূল হয়ে ওঠেন।
কারাবন্দি সুজনের মৃত্যু নিয়ে ইতিমধ্যে দেখা দিয়েছে সন্দেহ এবং নানা প্রশ্ন। কারা কর্তৃপক্ষ বা কারারক্ষীদের কেউই এসব বিষয়ে সদুত্তর মুখ খুলতে রাজি নন। প্রশাসনের নীরবতায় তৈরি হয়েছে জনমনে প্রশ্ন ও ক্ষোভ।
কারাপ্রধান এ.কে.এম মাসুম দিনাজপুর জেলা কারাগারে থাকা অবস্থাতেও তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের নানা অভিযোগ উঠেছিল। একাধিক কারারক্ষী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান বিশেষ সুপারিশে দিনাজপুর থেকে মাসুমকে কেরানীগঞ্জে বদলি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, কারাপ্রধান এ.কে.এম মাসুম ও নারী জেল সুপার সুরাইয়ার দুর্নীতির প্রতিবাদে গত ১০ই এপ্রিল কারাগারের ভেতরে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন বন্দীরা। বিক্ষোভ করায় প্রায় ১ হাজার বন্দীর ওপর করা হয় ব্যাপক নির্যাতন। পরে এই বন্দীদের শাস্তিমূলকভাবে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে স্থানান্তর করা হয়।
এই মৃত্যুর ঘটনার পরও কারাগারে নেই কোনো স্বচ্ছ তদন্ত কিংবা জবাবদিহি। কারাপ্রধান মাসুমের নেতৃত্বে বন্দীদের উপর এই অমানবিক নির্যাতনের অবসান না হলে, কারাগারের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
