নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১৮ জুন ২০২৫: জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের জানিয়েছেন, প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাদের ফোন করে ‘নিরপেক্ষ থাকবেন’ বলে আশ্বাস দেওয়ায় দলটি জাতীয় ঐক্য কমিশনের বৈঠকে যোগ দিয়েছে। এই বক্তব্যের মাধ্যমে ড. ইউনূসের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ড ইউনুসের এই স্বীকারোক্তি স্পষ্ট করে যে, ইউনূস আসলেই নিরপেক্ষ ছিলেন না, যার ফলে নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়েছে তাকে, যা তার প্রধান উপদেষ্টা পদের নিরপেক্ষতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরের বক্তব্য থেকে জানা যায়, ড. ইউনূস জামায়াতের সঙ্গে ফোনে কথা বলে তাদের আশ্বাস দিয়েছেন যে তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন। এই আশ্বাসের ভিত্তিতেই জামায়াত জাতীয় ঐক্য কমিশনের বৈঠকে অংশ নিয়েছে। তবে এই ঘটনা উল্টো প্রশ্ন তুলেছে—যদি ড. ইউনূস সত্যিই নিরপেক্ষ হতেন, তাহলে কেন তিনি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে আশ্বাস দিতে বাধ্য হলেন? এটি স্পষ্টভাবে ইঙ্গিত করে যে, ইউনূসের নিরপেক্ষতা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ, এবং তিনি জামায়াতের প্রতি বিশেষ পক্ষপাতিত্ব প্রদর্শন করেছেন।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ড. ইউনূসের প্রশাসন গঠনের পর থেকে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী-সমর্থকরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ দিয়েছেন। এ কারণে জামায়াতের পক্ষ থেকে এতদিন ইউনূসের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। তবে, সম্প্রতি ড. ইউনূস লন্ডনে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করার পর জামায়াত তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। তারা ইউনূসের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তুলেছে। এটি থেকে স্পষ্ট হয় যে, জামায়াতের দৃষ্টিকোণ থেকে ইউনূসের জামায়াতের প্রতি পক্ষপাতিত্ব গ্রহণযোগ্য, কিন্তু অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সংলাপ বা সাক্ষাৎ অগ্রহণযোগ্য।
এই পরিস্থিতি গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে: জামায়াত কি ড. ইউনূসের প্রধান উপদেষ্টা পদের নিয়ন্ত্রণকারী শক্তি? তাদের ইচ্ছা ও প্রভাবেই কি ইউনূসের কর্মপরিকল্পনা নির্ধারিত হচ্ছে?
এই ক্ষেত্রে ধারনা করা যায়, “ড. ইউনূসের এই ধরনের কার্যকলাপ তার নিরপেক্ষতার দাবিকে দুর্বল করে। একটি নির্দিষ্ট দলের সঙ্গে এমন আশ্বাসের সম্পর্ক প্রমাণ করে যে, তিনি জামায়াতের প্রভাবের অধীনে রয়েছেন, যা একজন প্রধান উপদেষ্টার জন্য অত্যন্ত আপত্তিকর।”
জামায়াতের অভিযোগ এবং ইউনূসের আশ্বাসের ঘটনা জাতীয় ঐক্য কমিশনের কার্যক্রমকেও প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। অনেকে মনে করছেন, এই ঘটনা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নিরপেক্ষ শাসনব্যবস্থার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। জনগণের মধ্যে এখন প্রশ্ন উঠছে—ড. ইউনূস কি সত্যিই সব দলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে কাজ করছেন, নাকি তিনি একটি নির্দিষ্ট দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য নিযুক্ত হয়েছেন?
এই পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সংলাপের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়ে গেছে। তবে, ড. ইউনূসের নিরপেক্ষতা নিয়ে উঠে আসা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য গঠনের প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। জনগণ এখন অপেক্ষায় রয়েছে, ড. ইউনূস কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেন এবং তার নিরপেক্ষতার দাবি কতটা টিকে থাকে।
