নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের বিকল্প সংযোগ গড়ে তুলতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে। সম্প্রতি দেশটির কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা ২২ হাজার ৮৬৪ কোটি রুপি ব্যয়ে শিলং-শিলচর মহাসড়ক প্রকল্প অনুমোদন করেছে। ১৬৬.৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই মহাসড়কের মধ্যে ১৪৪.৮ কিলোমিটার মেঘালয়ে এবং ২২ কিলোমিটার আসামে পড়বে।
এই নতুন মহাসড়ক মিয়ানমারের কালাদান মাল্টিমোডাল প্রকল্পের সম্প্রসারণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি বাস্তবায়িত হলে ‘সেভেন সিস্টার্স’ খ্যাত উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোতে ভ্রমণের সময় সাড়ে ৮ ঘণ্টা থেকে নেমে প্রায় ৫ ঘণ্টায় আসবে।
বর্তমানে ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের প্রবেশের একমাত্র প্রধান করিডোর হলো শিলিগুড়ি করিডোর বা ‘চিকেনস নেক’। বিকল্প হিসেবে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সংযোগ স্থাপন করাও একটি কার্যকর পন্থা ছিল। তবে বাংলাদেশ সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে ভারতের প্রবেশাধিকার সীমিত করায় দিল্লি সরকার বিকল্প পথ অনুসন্ধানে নেমেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারত মিয়ানমারের সঙ্গে যৌথভাবে বাস্তবায়িত ‘কালাদান প্রকল্প’কে কৌশলগত বিকল্প হিসেবে গুরুত্ব দিচ্ছে। ধারণা করা হচ্ছে, শিলং-শিলচর মহাসড়ক চালুর আগেই কালাদান প্রকল্পের কাজ শেষ হবে, যা ভারতের পূর্বাঞ্চলে ভূরাজনৈতিক অবস্থানকে আরও মজবুত করবে।
ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়েজ অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট করপোরেশনের মতে, এই বিকল্প রুটের পরিকল্পনা বাংলাদেশকে পাশ কাটিয়ে ভারতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের অংশ।
উল্লেখ্য গত মার্চ মাসে বেইজিং সফরের সময় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস মন্তব্য করেছিলেন, “সেভেন সিস্টার্স স্থলবেষ্টিত, তাদের সমুদ্রে কোনো প্রবেশাধিকার নেই। আমরাই এই অঞ্চলের একমাত্র সমুদ্রপথের অভিভাবক।”
ভারত এই বক্তব্যকে ইতিবাচকভাবে নেয়নি বলেই ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও ইউনূস সরকারের অন্যায্য ভারতবিরোধীতাকেও দায়ি করা হচ্ছে।
