বগুড়ায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের অনুষ্ঠানে উগ্রবাদী হামলায় বৈছা নেতা

বগুড়ায় জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের অনুষ্ঠানে উগ্রবাদী হামলায় বৈছা নেতা
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক | ১৫ই মে, ২০২৫

বগুড়ায় উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর অনুষ্ঠানে উগ্রবাদীদের হামলার একটি ঘটনা ঘটে গতকাল। শহরের সাতমাথায় মুক্তমঞ্চে সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন অনুষ্ঠানে ‘ফ্যাসিবাদবিরোধী মঞ্চ’–এর ব্যানারে একদল উগ্রবাদী প্রথমে বাধা দেন। পরে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে দ্বিতীয় দফা আয়োজিত অনুষ্ঠানে হামলা করে তারা। একপর্যায়ে উদীচী বগুড়া জেলা সংসদ কার্যালয়ের ব্যানার ছিঁড়ে ফেলা হয়। সংস্কৃতি কর্মীদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।

এ ঘটনায় সাত সংস্কৃতি কর্মী আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন- সিপিবি জেলা কমিটির সদস্য মাজেদুর রহমান, সাবেক ছাত্রনেতা সাদ্দাম হোসেন, উদীচী কর্মী শামীম রহমান ও শাওন পাল। বাকিদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

এ হামলায় জড়িতদের মধ্যে একজনের পরিচয় জানান সংস্কৃতিকর্মীরা, যিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের বগুড়া জেলা কমিটির শীর্ষ নেতা নূর মোহাম্মদ যোবায়ের। ৪শ কোটি টাকা দুর্নীতি, তদ্বির বাণিজ্যসহ বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির যুগ্ম সদস্যসচিব গাজী সালাউদ্দিন তানভীরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এই যোবায়ের।

মুক্তমঞ্চে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের আয়োজন করেছিল কয়েকটি সাংস্কৃতিক সংগঠন। উদীচী যার অন্যতম উদ্যোক্তা। বিকেল ৫টায় একদল উগ্রবাদী তরুণ সেখানে এসে তাদের মাইক কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেন। পরে সংস্কৃতিকর্মীরা সেখান থেকে সরে শহিদ মিনারে নতুন করে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের চেষ্টা করলে সেখানেও সেই উগ্রবাদীরা হামলা করেন।

সংস্কৃতিকর্মীরা বলেন, জাতীয় সঙ্গীত শুরুর সময় ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’ স্লোগান দিয়ে উগ্রবাদীরা এই হামলা চালান। এতে উদীচীসহ বিভিন্ন সংগঠনের ৭ জন কর্মী আহত হয়েছে। আসলে শিল্প-সংস্কৃতি নির্মূল করার উদ্দেশে একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী এসব করেছে।

পুলিশের উপস্থিতিতেই এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন আয়োজকরা। পুলিশের নির্বিকার ভূমিকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।

এই হামলায় উদীচীর সাংগঠনিক সম্পাদক চোখে গুরুতর আঘাত পান। হামলার ভিডিও করায় একজনের মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকেল ৪টা থেকেই উদীচীসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের শিল্পীরা মঞ্চে অবস্থান নেন। ৫টার দিকে অর্ধশত উগ্রবাদী তরুণ অনুষ্ঠান পণ্ড করে দেন। মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠান করতে না পেরে উদীচীর শিল্পীরা শহরের শহিদ খোকন পার্কে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুনরায় অনুষ্ঠান আয়োজনের চেষ্টা করেন। উগ্রবাদীরা সেখানেও হামলা করেন। হামলায় কয়েকজন আহত হন। অনুষ্ঠান পণ্ড হওয়ার প্রতিবাদে উদীচীর শিল্পীরা সাতমাথায় জেলা সংসদ কার্যালয়ে অবস্থান নেন। আর উগ্রবাদীরা সাতমাথায় মুক্তমঞ্চের দখল নেন।

সংস্কৃতি কর্মীরা জানান, উদীচীর জেলা শিল্পী সংসদ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া আয়োজক ও শিল্পীদের ওপর পুনরায় হামলা চালান উগ্রবাদীরা। এ সময় তারা উদীচী কার্যালয়ের ব্যানার ছিঁড়ে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করেন। মব সৃষ্টি করে তারা সংস্কৃতি কর্মীদের লাঞ্ছিত করেন। নারী কর্মীদের হেনস্তা এবং অশ্রাব্য গালাগালও করা হয়।

সদর থানার ওসি মঈনুদ্দিন বলেন, “উদীচী ও এনসিপির নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাতমাথা মোড়ে একটি অনুষ্ঠানে একটু ঝামেলা হয়েছিল। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় বড় কিছু হয়নি।”

উদীচী বগুড়া জেলা সংসদের সাধারণ সম্পাদক সাহিদুর রহমান বিপ্লব বলেন, উগ্রবাদীদের মধ্যে এনসিপিসহ কয়েকটি সংগঠনের নেতাকর্মী ছিলেন। পুলিশের নির্বিকার আচরণের কারণে আমাদের কর্মীরা হামলার শিকার হন। আমরা এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।

যদিও এনসিপির বগুড়া জেলা সংগঠক আহমেদ সাব্বির নিজ সংগঠনের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে বলেন, উদীচীর অনুষ্ঠানে হামলার সঙ্গে এনসিপির সংশ্লিষ্টতা নেই। এনসিপির নেতাকর্মীরা সেখানে গেলে সেটা তাদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ।

বৈছা নেতা নূর মোহাম্মদ যোবায়েরের উপস্থিতি প্রসঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হননি তিনি।

উল্লেখ্য, গত ৩০শে জানুয়ারি বৈছা আন্দোলনের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ এবং সদস্য সচিব আরিফ সোহেল স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বগুড়া জেলার ৩৩৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটিতে যোবায়েরকে ২৬ জন যুগ্ম আহ্বায়কদের একজন হিসেবে মনোনীত করা হয়েছিল।

Visited 48 times, 1 visit(s) today