একাত্তরের চেতনা চব্বিশ দিয়ে ‘অযৌক্তিকভাবে’ প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে: সিপিবি

একাত্তরের চেতনা চব্বিশ দিয়ে ‘অযৌক্তিকভাবে’ প্রতিস্থাপনের চেষ্টা হচ্ছে: সিপিবি
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জায়গায় ২০২৪ সালের আন্দোলনকে বসানোর ‘অযৌক্তিক’ চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)। দলটি বলেছে, সংবিধান পুনর্লিখনের প্রস্তাব তারা প্রত্যাখ্যান করছে—পথ হতে পারে শুধুমাত্র ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংস্কার।

১৩ই মে, মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সঙ্গে সংলাপে অংশ নিয়ে এসব মন্তব্য করেন সিপিবির নেতারা।

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, সংবিধান সংস্কার নিয়ে কমিশনের ভাবনায় তাদের ‘ঘোরতর দ্বিমত’ রয়েছে।

“আমরা বাংলাদেশকে পেয়েছি মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে,” বলেন রুহিন। “গণতন্ত্র সুপ্রতিষ্ঠিত হয়নি বলেই ৯০ ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান ঘটেছে। কিন্তু এখন এমন উপস্থাপন দেখা যাচ্ছে যেন একাত্তরের চেতনাকে ২৪ দিয়ে রিপ্লেস করা হচ্ছে—যা গ্রহণযোগ্য নয়।”

তিনি বলেন, “একাত্তরের চেতনা মানে জনগণের আকাঙ্ক্ষা, সাম্যের সমাজ। ২০২৪-এর গণ-আকাঙ্ক্ষা তার পরিপূরক হতে পারে, বিকল্প নয়। দুটোকে প্রতিস্থাপনমূলকভাবে তুলনা করা ইতিহাস ও আদর্শের সঙ্গে বেইমানি।”

সিপিবি সংবিধান পুনর্লিখনের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়ে ৭২-এর মূল কাঠামোর আলোকে সময়োপযোগী সংস্কারের দাবি তোলে।

“৭২ সালের সংবিধানে কিছু অসম্পূর্ণতা আছে। সেগুলো ঠিক করতে হবে। তবে চার মূলনীতি—জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা—অক্ষুণ্ন রাখতে হবে,” বলেন রুহিন।

তবে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মেয়াদ দুই মেয়াদে সীমিত রাখা ও নারী আসনে সরাসরি ভোটের প্রস্তাবকে তারা সমর্থন করেছে বলে জানান তিনি।

সংলাপে সিপিবি সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম বলেন, “রক্ত দিয়ে লেখা সংবিধান হঠাৎ করে বাতিল করা যায় না। ২৪-এর আন্দোলনে সংবিধান বদলের কোনো দাবি ছিল না। এখন এসব যুক্তি বানিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে—যা অনাকাঙ্ক্ষিত।”

তিনি আরও বলেন, “পুনর্লিখনের নামে যে বিতর্ক তৈরি হচ্ছে, তা ঐক্যের পথে বাধা। সংস্কার দরকার—বিতর্ক নয়।”

সিপিবির ১১ সদস্যের প্রতিনিধি দলে ছিলেন মিহির ঘোষ, অধ্যাপিকা এ এন রাশেদা, কাজী সাজ্জাদ জহির চন্দন, অনিরুদ্ধ দাশ অঞ্জন, কাজী রুহুল আমিন, রাগিব আহসান মুন্না, সাজেদুল হক রুবেল, আবিদ হোসেন ও অধ্যাপক ফজলুর রহমান।

সংলাপের শুরুতে বক্তব্য দেন জাতীয় ঐক্যমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রিয়াজ। উপস্থিত ছিলেন কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার ও ড. ইফতেখারুজ্জামান।

Visited 21 times, 1 visit(s) today