নিজস্ব প্রতিবেদক
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে পিকনিকের জন্য থেমে থাকা একটি লঞ্চে দুই তরুণীকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনায় নেহাল আহমেদ ওরফে জিহাদ নামে এক সমন্বয়ককে আটক করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুরে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার পুলিশ তাকে আটক করে।
আটক নেহাল আহমেদ সদর উপজেলার দক্ষিণ ইসলামপুর এলাকার বাসিন্দা। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র (বৈছা) আন্দোলনের একজন সমন্বয়ক বলে জানা গেছে। তিনি বৈছা আন্দোলনের নেতা সারজিস আলমের ঘনিষ্ঠ বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সেই ঘনিষ্ঠতাকে ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, ‘এমভি ক্যাপ্টেন’ নামের লঞ্চে ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় মারধরের শিকার দুই তরুণীর বয়স আনুমানিক ১৯ থেকে ২০ বছর। তাদের মারধরের ভিডিওটি সামাজিকে যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশব্যাপী নিন্দার ঝড় ওঠে।
সমন্বয়ক জিহাদ বলেন, “স্থানীয় লোকজন লঞ্চের এই মেয়েদের আচরণ ও বেশভূষায় ক্ষোভ জানায়। আমি তাদের নিবৃত্ত করতে ‘ভাই হিসেবে’ শাসন করেছি। আমি এটা না করলে মানুষজন নারীদের ‘জামাকাপড় টেনে খুলে ফেলত’। আরও বেশি হেনস্তা করতো।”

সদর থানার ভারপ্রাপ্ত ওসি সাইফুল আলম জানান, ঘটনার ভিডিওটি শুক্রবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, লঞ্চের সামনের অংশে এক তরুণ বেল্ট দিয়ে দুই তরুণীকে মারছেন এবং আশপাশের লোকজন উল্লাস করছে ও স্লোগান দিচ্ছে। ওই দুই তরুণী ছিলেন অসহায়।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার কেরানীগঞ্জ থেকে প্রায় ২০০-৩০০ জন যাত্রী একটি লঞ্চে নৌভ্রমণে বের হয়। প্রথমে লঞ্চটি সদরঘাটে থামে এবং পরে চাঁদপুরের মোহনপুরের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত ৮টার দিকে মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে নাশতা নেওয়ার জন্য লঞ্চটি থামলে চাঁদা নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা দেখা দেয়। এক সময় ওই যুবক মব করে লঞ্চে ঢুকে তল্লাশি চালায়, ভাঙচুর করে এবং কয়েকজনকে মারধর করে। ওই দুই তরুণীকেও মারধর করা হয়।
এ সময় তাদের কাছ থেকে টাকাপয়সা ও মোবাইল ফোন লুট করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং লঞ্চটিকে ঢাকায় ফেরত পাঠায়।
ওসি সাইফুল আলম বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগী এক তরুণীকে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বলা হলেও তিনি আসতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এবং তার ফোনও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কেউ অভিযোগ না করলে পুলিশ বাদী হয়ে মামলার প্রক্রিয়া শুরু করবে। নৌ পুলিশ লঞ্চ কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।
