কুষ্টিয়ায় চিকিৎসক দম্পতি মব ভায়োলেন্সের শিকার

কুষ্টিয়ায় চিকিৎসক দম্পতি মব ভায়োলেন্সের শিকার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক::

কুষ্টিয়ার অর্জুনদাস আগরওয়ালা সড়কে সোমবার দুপুরে এক নারী গাইনি চিকিৎসক শারমিন সুলতানা এবং তাঁর স্বামী মাসুদ রানা মারধরের শিকার হয়েছেন। প্রতারণার অভিযোগ তুলে একদল নারী চিকিৎসকের উপর হামলা চালায়। ঘটনার সময় ওই নারী চিকিৎসককে রাস্তার উপর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে মারধর করা হয়, এমনকি তাঁর পোশাক ছিঁড়ে দেওয়ারও চেষ্টা করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “ঘটনাস্থলে এক ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। এখন পর্যন্ত যেসব অভিযোগ এসেছে, সেগুলোর কাগজপত্র সংগ্রহ করা হচ্ছে এবং তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শারমিন সুলতানা লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে চেম্বারে গিয়ে এই হামলার শিকার হন। ১৫ থেকে ২০ জন নারীর একটি দল তাঁকে সড়কের ওপর টেনে নিয়ে গিয়ে মারধর করে। হামলাকারীরা অভিযোগ করেন যে, শারমিন সুলতানা তাঁদের বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে টাকা নিয়েছেন, কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি বা বিদেশে পাঠাতে পারেননি, ফলে তাঁরা টাকা ফেরত চাচ্ছিলেন।

লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শামীম জানান, শারমিন সুলতানা রিকশায় এসে সেন্টারের সামনে পৌঁছানোর পরই আক্রমণের শিকার হন। তিনি জানান, ঘটনা শুনে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় তাঁকে উদ্ধার করা হয়।

এই হামলার কিছু ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে দেখা যায়, একদল নারী চিকিৎসক শারমিন সুলতানাকে রাস্তার উপর টেনে নিয়ে যাচ্ছেন এবং মারধর করছেন।

হামলার অংশগ্রহণকারী নারীরা বলেন, শারমিন সুলতানা তাঁদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বিদেশে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, কিন্তু চাকরি দিতে না পারায় তাঁরা ক্ষুব্ধ হয়ে হামলা করেছেন।

এদিকে, শারমিন সুলতানার স্বামী মাসুদ রানা, যিনি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক, অভিযোগ করেছেন যে, তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই এবং এটি একটি ষড়যন্ত্র। তিনি জানান, তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে এই ধরনের অভিযোগ ভুল এবং মিথ্যা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল এবং কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অন্তত ১০ জন চিকিৎসক এই ঘটনায় থানায় গিয়ে তাদের সমর্থন জানিয়েছেন।

Visited 34 times, 1 visit(s) today